সিলেট সিটি করপেরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরকে পরিষ্কার রাখতে সিটি করপেরেশনের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, কিন্তু অনেকেই এখনও রাস্তাঘাট, ড্রেন ও বাসাবাড়ির আশপাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। এর ফলে নগরের বিভিন্ন স্থান মশার আবাসস্থলে পরিণত হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে মশার বংশবিস্তার অব্যাহত রয়েছে। এতে করে প্রাণান্ত চেষ্টা সত্ত্বেও মশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে সিলেট সিটি করপেরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনের আগে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে সিটি করপেরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও সচেতন থাকতে হবে, যাতে তারা রাস্তাঘাট বা ড্রেনে ময়লা না ফেলেন।
পরে সিসিক প্রশাসক নগরের দাড়িয়াপাড়া এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় কয়েকটি বাসার আশপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি পরিষ্কার ও সুন্দর নগর গড়ে তুলতে মশক নিধন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে সবাই সচেতন না হলে এবং নিজেদের পরিবেশ পরিষ্কার না রাখলে সিটি করপেরেশনের একার পক্ষে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়।
মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে সিটি করপেরেশনের সচিব বিশ্বজিত দেব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ এবং মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



