সিলেটে অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর

দেশীয় কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবন ও উৎপাদনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ শুধু কৃষকের শ্রম ও সময় সাশ্রয় করে না, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেটে অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর
সিলেটে অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর |নয়া দিগন্ত

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর রহমান বলেছেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ শুধু কৃষকের শ্রম ও সময় সাশ্রয় করে না, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দেশের কৃষির চাহিদা ও স্থানীয় পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সাথে কৃষকদের এসব যন্ত্র ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারক ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে কৃষিযন্ত্রের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বাড়ানো গেলে আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষি খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে আরও গতিশীল করে টেকসই ও আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরীর দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর এলাকায় আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ‘যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদের লক্ষে খামার যন্ত্রপাতি গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব মাকসুদা ইয়াসমিন এবং পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মো: মনিরুজ্জামান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিআইএমএমওয়াইটি) বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ওয়েন ডানকান ক্যালভার্ট।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্রির এফএমপিএইচটি বিভাগের সিএসও ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো: দুররুল হুদা।

আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলীমুছ ছাদাত চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় দেশীয় কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবন, উন্নয়ন, প্রস্তুতকরণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো, কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উৎপাদিত যন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশীজনরা।

পরে আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের কৃষিযন্ত্র প্রদর্শন করা হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব যন্ত্রের কার্যকারিতা, ব্যবহার ও কৃষিতে সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়।

কর্মশালায় অংশ নেয়া সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময়ের মাধ্যমে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনের মধ্যে সংযোগ আরো বাড়বে। এর ফলে কৃষকের উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রটি আরো সমৃদ্ধ হবে।