নাঙ্গলকোটে নিখোঁজের ৫ দিন পর রিকশাচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মেহেদির মাথার বাম পাশে আঘাত করে মাথার খুলি ভেঙে দেয় এবং মাথার ডান পাশে ছিদ্র করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তাকে হত্যা করে তার প্যান্টের বেল্ট দিয়ে বেঁধে একটি বড়ই গাছের নিছে বসিয়ে রাখে।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Nangalkot
নিহত অটোরিকশাচালক মেহেদি হাসান
নিহত অটোরিকশাচালক মেহেদি হাসান |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মেহেদি হাসানের (১৮) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি গ্রামের একটি বাগানের বড়ই গাছের নিচে বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মেহেদি উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার তিনানি বাড়ির মরহুম ইব্রাহিমের ছেলে। মেহেদি নয় মাস আগে নিজে পছন্দ করে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আবুল কালামের মেয়ে নাদিয়াকে বিয়ে করেন।

জানা যায়, মেহেদি বুধবার (৭ আগস্ট) সকালে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে সারাদিন তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরদিন শনিবার (৮ আগস্ট) তার মা কুসুম বেগম নাঙ্গলকোট থানায় তার নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। এর মধ্যে মেহেদির পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার নিখোঁজের বিষয়টি ব্যাপক প্রচার করেন। এছাড়া তারা কুমিল্লা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালসহ উপজেলার সর্বত্র তার খোঁজ করেন।

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি গ্রামের একটি বাগানে স্থানীয় শিশুরা খেলতে গিয়ে কিছু একটার গন্ধ পায়। পরে শিশুরা বিষয়টি গ্রামের লোকজনকে জানায়। স্থানীয় লোকজন বাগানে গিয়ে মেহেদির লাশের সন্ধান পান। পরে বিষয়টি নাঙ্গলকোট থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মেহেদির মামা শাহ আলম বলেন, মেহেদি গত ৭ আগস্ট তার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। ওইদিন তাকে না পেয়ে পরদিন ৮ আগস্ট আমার বোন কুসুম বেগম তার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। গত চার দিন কুমিল্লা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে তার খোঁজ করা হয়। এছাড়া নাঙ্গলকোটের চিলপাড়া, বক্সগঞ্জ অষ্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে আমার ফুফাতো ভাই শামীমের মাধ্যমে আটিয়াবাড়ি এলাকায় মেহেদির লাশ পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদির লাশ শনাক্ত করা হয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেহেদির লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলে তার অটোরিকশার চাবি পাওয়া গেছে, কিন্তু অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। তার হত্যাকাণ্ডের সাথে এলাকার সন্দেহভাজন দুই-তিনজন জড়িত থাকতে পারে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে মেহেদির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মেহেদির মাথার বাম পাশে আঘাত করে মাথার খুলি ভেঙে দেয় এবং মাথার ডান পাশে ছিদ্র করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তাকে হত্যা করে তার প্যান্টের বেল্ট দিয়ে বেঁধে একটি বড়ই গাছের নিছে বসিয়ে রাখে। আমরা আলামত হিসেবে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাবি ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করেছি। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।