সিলেটে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে মুখ খুললেন সন্তানরা

দেশে আইন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে-এ বিশ্বাস তাদের রয়েছে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালি আবাসিক এলাকায় সংঘটিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুললেন দম্পতির সন্তানরা। সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চার সন্তান।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানায়।

সম্মেলনে নিহতদের সন্তান আরিফ ইফতেখার, তাহমিনা সাত্তার এনি, সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু উপস্থিত ছিলেন। আমেরিকাপ্রবাসী আরিফ ইফতেখার পরিবারের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে তারা তাদের মা-বাবা এবং পরিবারের এক কনিষ্ঠ গৃহকর্মীকে হারিয়েছেন। একসাথে তিনজনকে হারানোর শোক তাদের পরিবারকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করেছে। চার সন্তানই প্রবাসে থাকলেও সিলেটই তাদের জন্মভূমি, শিকড় ও আপনজনদের আবাসস্থল।

তারা বলেন, তিনজনকে একসাথে হারানোর দুর্ভোগ প্রতিটি মুহূর্তে তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মা-বাবার অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি পরিবারের ছোট গৃহকর্মী মেয়েটির মৃত্যুও তাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

তবে এই পরিস্থিতিতেও দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রয়েছে বলে জানায় তারা।

তারা বলেন, দেশে আইন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে-এ বিশ্বাস তাদের রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে জানিয়ে নিহতদের সন্তানরা তদন্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। একই সাথে তারা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে তারা চারটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো—হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখা এবং আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

তারা বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন আইনের আওতার বাইরে যেতে না পারেন।

পরিবারের এই সঙ্কটে পাশে দাঁড়ানো সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় তারা। মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং সমবেদনার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষভাবে সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে জনগণকে অবহিত করার আহ্বান জানায়।

এ সময় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের কোনো ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানায় পরিবারের সদস্যরা।

তারা বলেন, বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বেদনাদায়ক। মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার জায়গা থেকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা যেন তাদের অনুরোধ বিবেচনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনীতে নিহতদের সন্তানরা বলেন, সত্য কখনো চাপা পড়ে থাকে না। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই।

প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত রংমিস্ত্রী বাবুলকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। তবে মামলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বাবুল মিয়াকে আসামি না করে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়েছে। ফলে মামলার এজাহারে বাবুলের নাম না থাকা, তাকে গ্রেফতারের কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে-এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা নিহতদের পরিবারের।