কালীগঞ্জে কামতা গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন

কারখানা প্রস্তুত রেখেও গ্যাস সঙ্কটের কারণে উৎপাদনে যেতে পারছেন না শিল্প উদ্যোক্তারা। নতুন কূপ চালু হলে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপও কমে আসবে।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Kaliganj
কামতা গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে
কামতা গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে কামতা গ্যাস ফিল্ডে কূপ খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে কূপ খনন কাজের উদ্বোধন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

উপজেলার উলুখোলা এলাকায় পেট্রোবাংলার আওতাধীন রাষ্ট্রীয় মালিকানার অন্যতম গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড’ কর্তৃক কামতা গ্যাস ফিল্ডে ওই মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপটি খনন করা হয়।

এ সময় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। নতুন কূপগুলো চালু হলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী বছর জুনের মধ্যে এসব কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোবাংলার পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন ও মো: আব্দুল মান্নান।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: আব্দুল জলিল প্রামানিক, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সমন্বিত খনন ঠিকাদার সিসিডিসির প্রতিনিধি ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কারখানা প্রস্তুত রেখেও গ্যাস সঙ্কটের কারণে উৎপাদনে যেতে পারছেন না শিল্প উদ্যোক্তারা। নতুন কূপ চালু হলে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপও কমে আসবে।

সরকার দেশের জনগণকে এই বার্তা দিতে চায়, আমরা ধীরে ধীরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময় মূল্য সমন্বয় করতে হয়। তবে জনগণের সুবিধা-অসুবিধাকেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। এছাড়া আবাসিক গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাতের কারণে এখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সমন্বয় করতে হচ্ছে।