ক্ষমতায় গেলে কুড়িগ্রাম থেকে উন্নয়ন শুরু হবে : জামায়াত আমির

‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে শহীদ আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদাত বরণ করেছিল। তার রাস্তা ধরে শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাত বরণ। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত বরণ। একে একে তারা ১৪ শ’ জন শহীদ হয়েছে। এই ১৪ শ’ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এই ১৪ শ’ জন বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমরা এই বীরদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Kurigram
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান |ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা কোনো পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করতে চাই না। আমরা শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।’

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের নদীগুলোকে কঙ্কাল বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো চোর। নদী ভাঙনরোধের জন্য যতগুলো বাজেট হয়েছে তার সব তাদের পেটে গিয়েছে। এই চোরেরা ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। আমরা যদি সুযোগ পাই তাহলে ওদের বুকে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘তিস্তা পাড় থেকে এই বিজয় শুরু হয়েছে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এতে দেশের মেয়েরাই আমাদের শক্তি যুগিয়েছিল। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’

তিনি আরো বলেন, ‘চার দিন আগে আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে যা-তা চালানো হয়েছে। আর একটি দল তাইরে-নাইরে বলে ঝাঁপিয়া পড়ছে। লজ্জা, ওদের চুনুপুটিসহ বড় বড় নেতারাও গান গাওয়া শুরু করল। আমাদের সাইবার টিম তাদের শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সত্য ঢাকা থাকে না।’

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের আবু সাঈদ বলেছিল, ভেতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। গুলি পিঠে নেয় নাই, তিন তিনটি গুলি বুকে নিয়েছিল। এটাই বীরত্বের পরিচয়। এখান থেকে জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান।’

তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে শহীদ আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদাত বরণ করেছিল। তার রাস্তা ধরে শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাত বরণ। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত বরণ। একে একে তারা ১৪ শ’ জন শহীদ হয়েছে। এই ১৪ শ’ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এই ১৪ শ’ জন বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমরা এই বীরদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’

এ সময় উপস্থিত ছিল এনসিপির সদস্য সচিব ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা আকতার হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান সরকার, জেলা জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, জুলাইযোদ্ধা আরিফুল ইসলাম, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিসের শবেবর রহমানসহ চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ও জেলা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।