পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-জামালপুর রেলপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেনের ভেতর জায়গা না পেয়ে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে দুর্ভোগ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে যাত্রীরা পলিথিন মুড়িয়ে ছাদে বসেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন।
কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ময়মনসিংহ-দেওয়ানগঞ্জগামী বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। ট্রেনের দরজা, বগির সংযোগস্থল এমনকি ইঞ্জিনের পাশেও ঝুলে যাত্রা করছেন অনেকে। সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায় ট্রেনের ছাদে। শিশু ও নারীসহ বহু যাত্রী ছাদের ওপরে গাদাগাদি করে বসে আছেন। কেউ মাথায় পলিথিন, কেউ আবার ব্যাগ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
দুপুরে ময়মনসিংহ স্টেশনে জামালপুরগামী এক যাত্রী আব্দুল কাদের বলেন, ‘দুইদিন ধরে টিকিটের চেষ্টা করেও পাইনি। পরিবারের সাথে ঈদ করতে না গেলে কষ্ট লাগে। তাই বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছি। বৃষ্টি হচ্ছে, তারপরও ঝুঁকি নিয়েই যাচ্ছি।’
আরেক যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গাও নাই। ছোট ভাইকে নিয়ে উঠছি। ভয় লাগতেছে, কিন্তু আর উপায় কী?’
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষ্যে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি যাত্রী চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও ময়মনসিংহ রুটের ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে হচ্ছে। বিভিন্ন ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতেও ছাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যাত্রীরা জানালা দিয়েও ট্রেনে উঠেছেন এবং ছাদে চড়ে যাতায়াত করেছেন।
এদিকে চলমান বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তুলেছে। আবহাওয়া অফিস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
রেলওয়ের ময়মনসিংহের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ অনেক বেশি। আমরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও মনিটরিং করছি। ছাদে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ না করতে যাত্রীদের বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে। স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তারপরও অনেক যাত্রী জোর করে ছাদে উঠে পড়ছেন।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। ফলে আগামী কয়েকদিন ঢাকা-জামালপুর রুটে ভোগান্তি আরো বাড়তে পারে।’



