যশোরে যুবলীগের মিছিলের ঘটনায় সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী, পাঁচ সংসদ সদস্য (এমপি), মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮০-১০০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ ইতোমধ্যে নয় জনকে গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত এ মামলায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে। একই দিন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ উদ্দিন এ মামলা করেন।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন শহরের কাজীপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে সৈয়দ তৌফিক জাহান, নুরুল আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম সুজন, মরহুম লোকমানের ছেলে বাবলু শেখ, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান হোসেন, ষষ্টিতলা এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু, সদর উপজেলার ভেকুটিয়া কারিগরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম, সুজলপুরের রফিক উদ্দিনের ছেলে সুমন ও তার ছোট ভাই ইমন এবং ভেকুটিয়ার মরহুম সলেমান দফাদারের ছেলে শাহাজাহান।
মামলায় যাদের যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সাবেক এমপি, স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮০-১০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলা সূত্রে জান যায়, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশের রাস্তা আজিজ সিটি সড়কে একত্রিত হয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে ৮০ থেকে ১০০জন নেতা-কর্মী সরকারবিরোধী নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে।
মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে আসামিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এদের মধ্যে প্রথম ১৩ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের গডফাদার ও অর্থ জোগানদাতা। বাকিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। তারা এখনো বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যেন্ত্রর চেষ্টা করছে। তারা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধরা ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় ৪০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৮০ থেকে ১০০ নেতা-কর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে বুধবার রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করা হয়। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’



