লোহাগাড়ায় ফসলি জমি হয়ে গেল পুকুর

উপজেলার চরম্বা তেলিবিলা, খালেকের দোকান এলাকায় কৃষকের অনুমতি ছাড়াই ৩০ শতক ফসলি জমির মাটি রাতের আঁধারে কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

Location :

Lohagara
খননকৃত ক্ষেত
খননকৃত ক্ষেত |নয়া দিগন্ত

‘গতকালকেও ক্ষেতে পানি দিয়েছি, ফসল তুলেছি। সকালে এসে দেখি আমার ক্ষেত আর নেই, পুকুর হয়ে গেছে। এই জমিতে চাষাবাদের আয় দিয়ে চলতো আমার সংসার। এখন আমি কিভাবে সংসার চালাবো?’ এক রাতের ব্যবধানে ফসলি জমি ২০ ফুট গর্তের জলাভূমি করা জমিতে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কৃষক বদিউল আলম।

শনিবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে উপজেলার চরম্বা তেলিবিলা, খালেকের দোকান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের অনুমতি ছাড়াই ৩০ শতক ফসলি জমির মাটি রাতের আঁধারে কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। খননকৃত ক্ষেতের পাশেই চিৎকার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইছেন কৃষক। পাশেই সিবিএম (ওয়ান) ব্রিকস ইটভাটায় মাটির পাহাড় জমে আছে। রাতে মাটি কাটার জন্য পুরো চক জুড়ে আলোর ব্যবস্থা করে রেখেছে।

কৃষক বদিউল আলম বলেন, ‘আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে কৃষি কাজ করে আমার সংসার চলে। এই বছরও আমি ফসল চাষাবাদ করেছি। সকালে এসে দেখি আমার জমির মাটি রাতারাতি নিয়ে গেছে ইটভাটার মালিক। এই নিয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনো ফলাফল পাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে গভীর রাতে মাটি কেটে নিয়েছে ইকবাল, আবিদুর রহমান মানু, মোহাম্মদ আলী ও আমিনুল হক।’

তেলিবিলা গ্রামের বাসিন্দা ইয়াছিন বলেন, ‘বদিউল আলম তার জমিতে বিভিন্ন সবজির আবাদ করেছেন। ইটভাটার মালিক ইকবাল, আবিদুর রহমান মানু, মোহাম্মদ আলী ও আমিনুল হকসহ আরো কয়েকজন প্রভাবশালী কৃষিজমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে তাদের ইটভাটায় নিয়ে গেছে। এতে পাশের কৃষি জমির মাটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ও রয়েছে।’

মাটিকাটা বন্ধ না করলে এই চক থেকে কৃষিজমি হারিয়ে যাবে বলেও আশংঙ্কা করেন তিনি।

সিবিএম (ওয়ান) ব্রিকসের মালিক আবিদুর রহমান মানু বলেন, ‘আমরা মাটি কিনি ঠিকাদার বাশারের কাছ থেকে। তারা কীভাবে কোথা থেকে মাটি এনে দেয় তা আমার জানা নেই।’

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি কাটার সাথে জড়িতদের আটক ও জরিমানা করা হয়েছে। জোর করে মাটি কাটার অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগ উঠেছে, পরিবেশ আইন অমান্য করে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবত এই চকের ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। প্রথমে এলাকার চিহ্নিত দালালরা লোভনীয় অফার দিচ্ছে কৃষকদের। রাজি না হলে দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি। তাতেও যদি কৃষি জমির মাটি বিক্রিতে অনীহা দেখায় কৃষক, তাহলে রাতের আঁধারে তাদের অনুমতি ছাড়াই কেটে নিচ্ছে এসব জমির মাটি। মাটি ব্যবসায়ীরা এক্সকাভেটর দিয়ে ১০ থেকে ২০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব গর্তে পাশের কৃষিজমির মাটিও ভেঙে পড়ছে।

এভাবেই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের তেলিবিলা, রাজঘাটা এলাকার তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে মাটি। এসব মাটির শেষ ঠিকানা হয়েছে খালেকের দোকান এলাকায় অবস্থিত সিবিএম (ওয়ান) ব্রিকস নামের এক ইটভাটায়।