নওগাঁয় মান্দায় এলজিইডির এক কার্যসহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে প্রতারণার অভিযোগে ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির মান্দা উপজেলার সতীহাট শাখা থেকে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে তাদের নারী সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মোড় এলাকার শ্রী কনক কুমার (৩০) ও কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো: সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং তাদের নারী সহযোগী তানজিমা খাতুন (৪৪)।
অভিযোগে জানা যায়, নওগাঁর মান্দায় এলজিইডি কার্যালয়ের কার্য সহকারী আলমগীর হোসেনকে হানিট্র্যাপে ফেলে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি ও জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর এক লাখ ২০ হাজার টাকার একটি স্বাক্ষর করা চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, উপজেলার বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪) নামের এক নারী দীর্ঘদিন ধরে মান্দা উপজেলা এলজিইডি অফিসের কার্যসহকারী মো: আলমগীর হোসেনকে দাফতরিক কাজের সূত্রে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাতে কল দিয়ে তিনি আলমগীরের সাথে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরদিন ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তানজিমার সহযোগী কনক কুমার, সাজ্জাদ হোসেনসহ আরো কয়েকজন কৌশলে আলমগীরকে চা খাওয়ার কথা বলে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান।
সেখানে চা ও সিগারেটের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে কাবু করা হয়। পরে পাশের একটি মাটির ঘরে নিয়ে অভিযুক্তরা তানজিমা খাতুনকে দিয়ে আলমগীরকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে এবং মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরে অভিযুক্তরা ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় আসামিরা ভুক্তভোগীর মানিব্যাগ থেকে নগদ ছয় হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন এবং স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংক চেকের বই নিয়ে আসেন। পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে আসামিরা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সতীহাট শাখা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে যায়।
ভুক্তভোগী আলমগীরের মাধ্যমে এ সংবাদ জেনে মান্দা থানা পুলিশ ব্যাংকে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্য দুই সহযোগী সুমন ও ইসরাফিল পালিয়ে যায়। পুলিশ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভুক্তভোগীর চেকটি উদ্ধার করে।
পরে পৃথক অভিযানে অন্য আসামি তানজিমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, এলজিইডির কার্যসহকারীকে হানিট্র্যাপ, আটক, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও প্রতারণার অভিযোগে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতার আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো: আলমগীর হোসেন মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।



