১৫ দিন ধরে ভিসি শূন্য পাবিপ্রবি, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা

‘গত ১৫ মার্চ থেকে রিজাইন দেয়ার পর থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি শূন্য হয়ে আছে। অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে ভিসির স্বাক্ষর লাগবে।

পাবনা প্রতিনিধি
নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন
নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ১৫ দিন ধরে ভিসি শূন্য। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নানা সঙ্কট, নেমে এসেছে স্থবিরতা।

ভিসির স্বাক্ষরের জন্য আটকে আছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন। এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠান থেকে এই দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান মো: কামরুজ্জামান বলেন, ‘২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জন ভিসি চলে গেছেন। যারা এসেছিলেন তারা সবাই অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা ভিসি ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ভিসিই আসেন না কেন, তিনি চান তার বিভাগের ও তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধিক পরিমাণে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক এখানে হোক। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়ে শিক্ষকতা করলেও নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পারেননি। কারণ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ভিসি নিয়োগ হয়নি।’

অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এখন আরে ছোট বলা যাবে না। এখানে আমাদের গ্রেড-১, গ্রেড-২, গ্রেড-৩ অধ্যাপক আছেন। এখন প্রায় ৩০ জনের অধিক অধ্যাপক আছেন, যারা ভিসি হওয়ার যোগ্য। অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেসকল অধ্যাপকরা এখানে ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার হিসেবে আসছেন তারাও কিন্তু এই গ্রেড-১, গ্রেড-২, গ্রেড-৩ থেকে আসছেন। তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিসি নিয়োগ করতে সমস্যা কোথায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ থেকেই যদি ভিসি নিয়োগ করা হয় তাহলে সবধরণের সমস্যা সহজেই নিরসন করা সহজ হবে।’

লাইফ অ্যান্ড আর্থ সাইন্স ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ মার্চ থেকে রিজাইন দেয়ার পর থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি শূন্য হয়ে আছে। অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে ভিসির স্বাক্ষর লাগবে। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর বেতন আটকে আছে ভিসির স্বাক্ষরের জন্য। আমরা চাই সরকার অতি দ্রুত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিসি নিয়োগ দিয়ে এই সমস্যা থেকে উত্তোরণ ঘটাবে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান মো: কামরুজ্জামান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফজলুল হক, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধুরী, ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খায়রুল আলম প্রমুখ।