ঘোষিত সময়ের আগেই রাসিকের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন এবং পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঈদের দিনেই মাঠে নামে প্রশাসক মাহফুজুর। ঘোষণা দেন ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে পরিচ্ছন্ন হবে রাজশাহী। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেয় রাসিক।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রাসিকের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ
রাসিকের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী মহানগরীতে কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অপসারণ করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন রাসিক প্রশাসক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন এবং পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঈদের দিনেই মাঠে নামে প্রশাসক মাহফুজুর। ঘোষণা দেন ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে পরিচ্ছন্ন হবে রাজশাহী। নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেয় রাসিক।

জানা গেছে, ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে দুপুরে ওয়ার্ড পর্যায়ে এবং বিকেলে বুলনপুর এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন), রুয়েট সংলগ্ন এসটিএস, রাবি এসটিএসসহ বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক।

রাসিক প্রশাসকের গতিশীল নেতৃত্বে এক হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্রুততার সাথে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। এ কাজে প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জাম ও জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিল।

ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা থেকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে সিটি করপোরেশনের এসটিএসে স্থানান্তর করা হয়। যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে রাজশাহী নগরী ক্লিন হয়েছে। আর রাতের মধ্যেই সকল বর্জ্য এসটিএস থেকে ভাগাড়ে স্থানান্তর করা হয়। এতে ঈদের পরদিনই পরিচ্ছন্ন নগরী পেলেন নগরবাসী।

এ অর্জনে নগরবাসী, পরিচ্ছন্নকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে রাসিক প্রশাসক বলেন, ‘নাগরিকদের সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই নির্ধারিত সময়ের আগেই মহানগরী পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা এভাবেই দিনরাত কাজ করে যাব।’

এদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার এ সফলতায় নগরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন রাসিক প্রশাসক।

নগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৎপরতা খুব প্রশংসনীয় ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরী পরিষ্কার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।’

উপ শহর এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘কোরবানির গোশত সংরক্ষণের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার দেয়ার উদ্যোগটি খুবই ভালো লেগেছে। এতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, ‘ঈদের দিনেই প্রশাসক নিজে মাঠে থেকে কাজ তদারকি করেছেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এত দ্রুত বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় দুর্গন্ধ বা ভোগান্তি হয়নি।’

উল্লেখ্য, এবার প্রথমবারের মতো রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের উদ্যোগে নগরীর প্রায় ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে কোরবানির গোশত সংরক্ষণের জন্য তিনটি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এছাড়া গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য বড় দু’টি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও এক কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার দেয়া হয়। যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।