আরব আমিরাতে নিহত প্রবাসীর লাশ পৌঁছাল বাড়িতে, এলাকায় শোকের ছায়া

‘মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাতে চারজন বাংলাদেশীর মৃত্যুর তথ্য জানতে পেরেছি। তার মধ্যে একজন দুবাই, একজন বাহারাইন ও দু’জন সৌদি আরবে মারা গেছেন। আজ একজনের লাশ দেশে আনা হলো। পর্যায়ক্রমে বাকিদের লাশ ফেরত আনা হবে।’

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

Location :

Maulvibazar
নিহত প্রবাসী আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদ
নিহত প্রবাসী আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদ |সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা দাসপাড়া গ্রামের সন্তান প্রবাসী আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদের বাড়িতে সকাল থেকেই ভিড় ছিল শোকাহত স্বজনদের। সবার প্রতিক্ষা কখন আসবে সালেহ’র লাশবাহী কফিন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সালেহ’র লাশবাহী কফিন নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। লাশবাহী কফিন বাড়িতে ঢুকতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো বিদায় দিতে নিহতের বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশীরা।

লাশ পৌঁছে দিতে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় সালেহ আহমদের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি।

এর আগে, আহমদ আলীর ছেলে, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা লাশ নিতে বিমানবন্দরে আসেন। লাশ গ্রহণের পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাতে চারজন বাংলাদেশীর মৃত্যুর তথ্য জানতে পেরেছি। তার মধ্যে একজন দুবাই, একজন বাহারাইন ও দু’জন সৌদি আরবে মারা গেছেন। আজ একজনের লাশ দেশে আনা হলো। পর্যায়ক্রমে বাকিদের লাশ ফেরত আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন তারাও সেসব দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। পরিবারের সাথেও যোগাযোগ রাখছি। আমরা প্রবাসীদের পাশে আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিহতের লাশ নিয়ে তার গ্রামের বড়ি যাব। তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। নিহতদের পারিবারকে সরকারের তরফ থেকে সাহায্য করা হবে।’

লাশ গ্রহণের পর নিহতের চাচাত ভাই কামাল আহমদ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে সরকারের তরফ থেকে আমাদের পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের দাবি, আমার ভাইকে যেনো শহীদের মর্যাদা দেয়া হয়।’

একইদিন বিকেল ৫টায় বৃহত্তর গাজিটেকা শাহী ইদগাহ মাঠে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় বড়লেখার বিভিন্ন এলাকার মানুষও তার জানাজায় অংশ নেন। পরে তাকে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইফতারের পর পানিবাহী লরী নিয়ে বের হন সালেহ আহমদ। এ সময় ইরানী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হন তিনি। পরে দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে আজ তার লাশ প্রথমে ঢাকায় আনা হয়। পরে সেখান থেকে আকাশপথে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দর হয়ে সড়ক পথে সালেহ আহমদের বাড়িতে নেয়া হয়।