চুয়াডাঙ্গায় দ্রুত পাসপোর্টের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সাম্প্রতিক এক ঘটনার ভুক্তভোগী দামুড়হুদার এনামুল হক। ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশে পাসপোর্ট করতে এসে তিনি দামুড়হুডার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের চিহ্নিত দালাল সিরাজুল ইসলামের শিকার হন।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সক্রিয় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক দালালের বিরুদ্ধে। পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা ও সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন অভিনব কায়দায় চলছে এই প্রতারণা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ভিমরুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কার্যালয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা পাসপোর্ট অফিসে ঢোকার আগেই তাদের পথ আগলে দাঁড়ায় দালাল চক্রের সদস্যরা। কাগজপত্র পূরণ, ভুয়া কাগজপত্র পাস করানো কিংবা দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব নেয়ার কথা বলে প্রার্থীদের পার্শ্ববর্তী দোকানে নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক এক ঘটনার ভুক্তভোগী দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামের মরহুম ইসরাফিল মল্লিকের ছেলে এনামুল হক। ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশে পাসপোর্ট করতে এসে তিনি দামুড়হুডার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের চিহ্নিত দালাল সিরাজুল ইসলামের শিকার হন।

ভুক্তভোগী এনামুল বলেন, ‘অফিসে ঢোকার আগেই সিরাজুল আমার কাছ থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেন এবং ১২ হাজার টাকায় দ্রুত পাসপোর্ট করে দেয়ার চুক্তি করেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পাসপোর্ট না পেয়ে যোগাযোগ করলে ফাইলের সমস্যার কথা বলে তিনি আরো ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। না বুঝে আমি মোট ২৪ হাজার টাকা দিই। অথচ চার মাস পার হলেও পাসপোর্ট মেলেনি। এখন ফোন দিলে আরো ১০ হাজার টাকা চাইছে এবং টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।’

আরেক পাসপোর্ট প্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম জানান, পাসপোর্ট অফিসের চারপাশে এমন অনেক দালাল সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রলোভনে পড়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ হয়রানি ও অর্থদণ্ডের শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে দালাল চক্রের সদস্য মো: সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অর্থ গ্রহণের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গার মূল একজনের মাধ্যমে কাজ করি। ফাইলপ্রতি সামান্য টাকা রেখে বাকিটা তাদের হাতে তুলে দিই। প্রয়োজনে সামনাসামনি বসে বিষয়টি মীমাংসা করা যাবে।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম জাকির হোসেন জানান, দালাল চক্র প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পাসপোর্টের নির্ধারিত সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে আবেদন করলে দালালের কোনো প্রয়োজন হয় না। আমরা নিয়মিত আবেদনকারীদের সতর্ক করছি এবং নোটিশ বোর্ডেও সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। আবেদনকারীরা সচেতন না হলে এসব প্রতারণা রোখা কঠিন।’

এদিকে, পাসপোর্ট কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন সমাজ।