অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন বলেছেন, সীরাতে রাসূল সা:-এর আলোকে আমাদের এই সমাজকে গড়তে হবে। আগামীতে নেককার মুত্তাকী মানুষের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিতে হবে। বিগত ৫৪ বছর যাবৎ এ দেশের সম্পদ লুট হয়েছে। যারা সম্পদ লুট করেছে তারা কখনো দেশপ্রেমিক নয়। যারা পালিয়েছে তারা কখনো দেশপ্রেমিক নয়। দ্বীনের স্বার্থে বাংলাদেশের কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সীরাতে রাসূলের আলোকে আমাদের সমাজকে সাজাতে হবে।
বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত চট্টগ্রামের উদ্যোগে পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আজিমুশশান মিলাদুন্নবী সা: মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদ চত্বরে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে বসবাস করে আসছে। আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বহন করে।
উপদেষ্টা বলেন, ইসলাম ধর্ম শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার শিক্ষা দেয়। এ দেশে ইসলামিক দলগুলো সবসময় দেশের কল্যাণ, জনগণের মঙ্গল ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভিন্ন ভিন্ন মত, পথ ও মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও ইসলামিক দলগুলোকে বৃহত্তর স্বার্থে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা, নৈতিক সমাজ গঠন এবং দেশকে শান্তি ও উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে আমাদের একক ও অভিন্ন ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতির স্বার্থে, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় এবং আগামী প্রজন্মের কল্যাণে ইসলামিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে বাংলাদেশ আরো সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও শক্তিশালী হবে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ নতুন মডেলে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করা হবে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণে এবং মসজিদের আদি ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেই এ পুনঃনির্মাণ কার্যক্রম চালানো হবে ।
বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত চট্টগ্রামের সভাপতি বায়তুশ শরফ কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাওলানা সাইয়েদ মোহাম্মদ আবু নোমানের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা মোহছেন আল হুসাইনী ও মাওলানা ইরফানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আজিমুশশান মিলাদুন্নবী সা: মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওলাদে রাসূল সা:, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য ও আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদের খতিব আল্লামা সাইয়েদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানী। প্রধান আলোচক ছিলেন মুফাসসিরে কোরআন, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা ক্বারী আব্দুল্লাহ আল-আমিন।
এ ছাড়াও মাহফিলে অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন আইআইউসির সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ, রাহবারে বায়তুশ শরফ মাওলানা আব্দুল হাই নদভী, শেখেরখীলের পীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, গারংগিয়ার পীর মাওলানা মাওলানা আনোয়ারুল হক, মাওলানা তাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. আ ক ম আবদুল কাদের, মাওলানা এটিএম তাহের, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. আ স ম আব্দুল মান্নান চৌধুরী, চুনতীর পীর মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল হক নিজামী, দারুল উলুম কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস শাহজাহাদা মাওলানা মনিরুল মান্নান, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা নেজাম উদ্দিন, আইআইউসির প্রফেসর ড. বি. এম মুফিজুর রহমান আজহারী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আহমদ আলী, মুহাদ্দিস মাওলানা আহমদুর রহমান, মাওলানা হারুনুর রশীদ (চরকানাই পটিয়া), মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ছলিমুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ শফিউল্লাহ কুতুবী, মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ শাহ আলম, মাওলানা মমতাজুর রহমান, মাওলানা অধ্যক্ষ মিঞা মোহাম্মদ হোসাইন শরীফ, মাওলানা শরীয়ত উল্লাহ জিহাদী, মাওলানা মহি উদ্দিন মাহবুব প্রমুখ।
এ ছাড়াও মাহফিলে আরো দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, ইসলামী চিন্তাবিদগণ আলোচনা করেন। মাহফিলে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মিলাদুন্নবী সা: উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মাহফিল শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা সাইয়েদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানী।



