নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে চোলাই মদ তৈরির কারখানা ধ্বংস

‘গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা ৫২টি প্লাস্টিকের ড্রামে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সব ধ্বংস করেছি।’

নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Natore
ধ্বংস করা একটি মদের ড্রাম
ধ্বংস করা একটি মদের ড্রাম |নয়া দিগন্ত

নাটোরের নলডাঙ্গায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আখক্ষেতসহ বিভিন্ন জায়গায় গোপনে গড়ে ওঠা কারখানা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লিটার চোলাই মদ ধ্বংস করা হয়েছে।

উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর দিয়ারপাড়া গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত তারা এ মদ ধ্বংস করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার দিয়ারপাড়া গ্রামে মাদকের কারবার চলছিল। পুলিশ ও প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অবশেষে তারা নিজেরাই মাদক নির্মূলের উদ্যোগ নেন। এ সময় আখক্ষেতের ভেতরে মদ তৈরির গোপন স্থানের সন্ধান মেলে। সেখানে মাটিতে গর্ত করে প্লাস্টিকের ড্রাম পুঁতে রাখা হয়েছিল। এসব ড্রামে চোলাই মদ তৈরির উপকরণ—জাওয়া ও চুয়ানি সংরক্ষণ করা ছিল।

অভিযানে অংশ নেয়া মিন্টু রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও মাদক কারবার বন্ধ করা যায়নি। ফলে শুধু গ্রামের নয়, আশপাশের এলাকার লোকজনও এখানে মাদক সেবন করতে আসতেন। পরে গ্রামের চৌকিদারকে সাথে নিয়ে নিজেরাই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করি।’

‘গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা ৫২টি প্লাস্টিকের ড্রামে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সব ধ্বংস করেছি। এখানে আর কেউ মদ তৈরি করতে পারবে না।’

গ্রাম পুলিশের সদস্য রেজাউল করিম বলেন, ‘এর আগে মাদককারবারিদের কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তারা কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আসে। ওরা ঠিক হয়নি। মদের কারবার চলমান ছিল।’

এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। মির্জাপুর দিয়ারপাড়া গ্রামের মানুষ যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।’