ময়মনসিংহের ভালুকায় এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল নামে একটি কারখানার বর্জ্যপানি ফেলা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদফতর, ময়মনসিংহ। ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে দূষিত বর্জ্যপানি ফেলার অভিযোগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কারখানাটির ড্রেনেজ লাইন সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আশপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমিতে দূষিত বর্জ্যপানি ফেলছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ দূষিত শিল্পবর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছিল, যা সরাসরি কৃষিজমিতে প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও কৃষির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল। এরই অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদফতরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কারখানার বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ (সিলগালা) করে দিয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া এবং কৃষকদের পক্ষে প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।
স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওই কারখানাটি ও হ্যারী ফ্যাশন লিমিটেডের অবৈধ বর্জ্যে ভরাডোবা এলাকায় ৩৩৫.৭৪ একর ফসলী জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
কারখানটির অ্যাডমিন জেনারেল ম্যানেজার ইকরাম উল্যাহ জানান, তাদের ওই ড্রেনটি দিয়ে কারখানার গোসলখানাসহ আনুষঙ্গিক পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে কৃষিজমির ক্ষতি হওয়ার কথা না। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ান জন্য আমাদের নোটিশ দেয়া হলেও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কাজটি করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
পরিবেশ অধিদফতর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত নিয়ম ও ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী অপরিশোধিত তরল ও ডমেস্টিক বর্জ্য স্টিল পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশনের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা অনুসরণ না করে আশপাশের কৃষিজমিতে ফেলছিল। এ কারণে ড্রেনেজ সিস্টেম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনকে সুপারিশ করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ অধিদফতরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের ড্রেনটি সিলগালা করা হয়েছে।



