জামালগঞ্জে খেয়া ঘাট নির্মাণে ধীরগতি, দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

মঙ্গলবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্তাপিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর কাজের ঠিকাদারকে এনে দ্রুত কাজ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ

Location :

Sunamganj
জামালগঞ্জ খেয়া ঘাট
জামালগঞ্জ খেয়া ঘাট |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলার সবচেয়ে জনবহুল অধ্যুষিত স্থান জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার খেয়া ঘাট। জামালগঞ্জ অংশের ঘাট নির্মাণ কাজে ধীর গতির কারণে অন্তহীন দুর্ভোগ ও দুর্দশা পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জামালগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্তাপিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর কাজের ঠিকাদারকে এনে দ্রুত কাজ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, খেয়া পাড়াপাড়ে জামালগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুল সংলগ্ন ঘাট নির্মানে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্ধে কাজ পান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টারপ্রাইজ। চলতি চৈত্র মাসের শেষ তারিখে ঘাটের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। শুধুমাত্র পিলার ও রড এটে রেখে প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তেমন কোন দৃশ্যমান কাজ চোখে পড়েনি।

এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন জামালগঞ্জসহ পাশ্ববর্তী উপজেলা ধর্মপাশা ও মোহনগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ সুরমা নদী পাড় হয়ে উপজেলার বৃহৎ সাচনাবাজার, জেলা শহর ও বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করেন। আবার নদীর ওপাড়ের হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে আসেন। ঘাট নির্মাণ কাজে বিলম্ব হওয়ায় দু’পাড়ের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

জামালগঞ্জ পাড়ের ঘাট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প একটি সরু পথ দিয়ে চলাচল করছেন। এতে নারী-পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে চরম বিরম্বনা পোহাতে হচ্ছে। খেয়া পাড়াপাড়ের উঠা নামার সময় প্রচণ্ড ভীড়ের কারণে টোল আদায়ে গত তিন মাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষও।

একটু বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত পথে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের খেয়া নৌকায় নদী পাড়ি দিতে হয়। পা পিছলে পড়ে হতাহতের খবরও শোনা গেছে। অপর দিকে সাচনাবাজার অংশের ঘাটটি বেশি খাড়া থাকায় যাত্রী উঠা-নামায় দুর্ভোগসহ দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন কয়েকজন।

কবে জামালগঞ্জ পাড়ের ঘাট নির্মাণ কাজ শেষ হবে তা এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাচনাবাজার খেয়া ঘাট পাড়াপাড়ের ইজারাদার মো: শহীদুর রহমান বলেন, ‘প্রায় তিন মাস যাবৎ জামালগঞ্জ অংশের ঘাট নির্মাণ কাজে টিকাদার গাফিলতি করছেন। এ কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ঘাট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প একটি পথে চলাচল করছে। এতে নারী-পুরুষ ও শিশুদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া খেয়া পাড়াপাড়ের সময় প্রচণ্ড ভীরের কারণে টোল আদায়ে গত তিন মাসে আমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এখানে পরিদর্শনে আসলে তাকে ঘাট নির্মাণ কাজ বিলম্বের কারণে জনগণের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টিসহ আমার টোল আদায়ে ক্ষতির বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি এটি দেখবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।’

শিক্ষার্থী রোমনা আক্তার বলেন, ‘জামালগঞ্জ পাড়ের খেয়া ঘাট নির্মান কাজ বিলম্ব হওয়ায় আমাদের নদী পাড়াপাড়ে খুব সমস্যা হচ্ছে। সরু একটি বিকল্প পথে নারী-পুরুষ ধাক্কা-ধাক্কি করে যেতে হচ্ছে। এতে নারী যাত্রীদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত ঘাটটি নির্মান কাজ শেষ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

Topics