বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং কোল্ড স্টোরেজে জায়গা সঙ্কটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের আলু চাষিরা। জেলার সদর, টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং, গজারিয়া ও সিরাজদিখান উপজেলায় আলু তোলার কাজ প্রায় শেষ। তবে, বাজারে ক্রেতা না থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমিতেই আলু স্তূপ করে রাখছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে আলুর দাম আশানুরূপ নয়। বর্তমানে প্রতি মণ আলু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকায়। অথচ এক বস্তা আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখতে খরচ পড়ছে প্রায় ৮০০ টাকা। ফলে সংরক্ষণ করেও লাভের মুখ দেখার সুযোগ নেই।
আব্দুল্লাহপুর বেতকার আলু পাইকার তারেক বেপারী বলেন, কৃষকের ওপর যেন একসাথে ঝড়-তুফান নেমে এসেছে। দাম নেই, আবার রাখার জায়গাও নেই। বাধ্য হয়ে জমিতেই আলু ফেলে রাখতে হচ্ছে।
টঙ্গীবাড়ীর চাষি মোক্তার হোসেন জানান, আলু ফলালেও দামের কারণে কোল্ড স্টোরেজে রাখতে পারি না। পুরোপুরি লোকসান গুনতে হচ্ছে। ৪০০ মণ আলু জমিতে স্তূপ করে রেখেছি। পাইকার আসে না, বিক্রিও হয় না। খুচরা বাজারে দাম থাকলেও আমরা তার সুবিধা পাই না। সরকার রফতানির ব্যবস্থা না করলে আলু চাষে ধস নামবে।
বলই গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় কোথাও জায়গা পাচ্ছি না। খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় জেলার অধিকাংশ কোল্ড স্টোরেজ ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষক সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আব্দুল্লাহপুর পপুলার কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার মীর আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের স্টোরেজে আর জায়গা নেই। অনেক কৃষক আলু রাখতে না পেরে জমিতেই রেখে দিচ্ছেন। পাইকার পেলে তখন বিক্রি করবেন।
কম্বাইন্ড কোল্ড স্টোরেজের সুপারভাইজার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি আলু আসায় সবাইকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পয়সা কোল্ড স্টোরেজের হিসাবরক্ষক মনির খন্দকার বলেন, বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষণ ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। এতে কৃষকরা আরো চাপে পড়েছেন।
বেতকা ইয়াছিন বাণিজ্যালয়ের ম্যানেজার শামসুদ্দিন বলেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে, কিন্তু আলুর দাম নেই। খরচই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জে প্রায় ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় নয় লাখ ৭৫ হাজার টন, যার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৪৯ হাজার টন। জেলায় ৬১টি কোল্ড স্টোরেজ সচল থাকলেও তিনটি বন্ধ রয়েছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সংরক্ষণ সঙ্কট নিরসন ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
বাম্পার ফলনের পরও ন্যায্য দাম ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



