‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এবং ‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল—মাদক ছেড়ে মাঠে চল’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় পর্দা উঠল জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এই জমকালো আসরের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
জাতীয় সংগীতের সুরে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অতিথিরা মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
এবারের টুর্নামেন্টে জেলার ৪টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভাসহ মোট ৮টি দল অংশ নিচ্ছে। আকর্ষণ বাড়াতে প্রতিটি দলে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ৫ জন করে বিদেশী ফুটবলারকে মাঠে নামানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী ম্যাচে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও দর্শনা পৌরসভা একাদশ পরস্পরের মুখোমুখি হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট তারই একটি অংশ।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই আয়োজন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নবজাগরণ ঘটাবে এবং তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে সহায়ক হবে। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলগত চেতনা গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে; এর সাথে কোনো আপস চলবে না।’
দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে চুয়াডাঙ্গায় ভবিষ্যতে আরো বেশি খেলাধুলার আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও দেন মন্ত্রী।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের (আসন-৫) সংসদ সদস্য নেওয়া হালিমা আরলী, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান এবং জেলা সিভিল সার্জন ডা: হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
এছাড়াও জেলার চার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব বিপুল হাসান হ্যাজি, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুন্নবী রিয়ানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ক্রীড়া সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় এদিন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ।



