বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ‘দেশের মানুষ এবার লুটপাট, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতিকে চূড়ান্তভাবে বিদায় জানাতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি, লুটপাটের রাজনীতি ও দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের রাজনীতি। এই নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে গোটা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতেই ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য গঠন করা হয়েছে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভা মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আজ আমরা ভাই-বোনেরা একত্রিত হয়েছি এই অঙ্গীকার নিয়ে যে, আমার সোনার বাংলাদেশ থেকে আর কোনো সম্পদ লুটপাট হতে দেয়া হবে না। চুরি, বাটপারী ও সন্ত্রাসের রাজনীতি এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। এটাই ছিল আমাদের বিপ্লবের স্বপ্ন।’
জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি থেকে লুটপাট, দুর্নীতি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস দূর করতে চায়। মুক্তিকামী মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে ইনশাআল্লাহ এর মধ্য দিয়েই দেশের রাজনীতিতে পরিশুদ্ধি আসবে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা কালোটাকা, গুণ্ডামি ও পেশিশক্তির ওপর ভর করে ক্ষমতার মসনদ দখল করতে চায় তাদের দিন শেষ। বাংলাদেশ আর সেই পুরনো বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশ এখন বিপ্লবীদের দেশ। আপনারা মনে করেছেন, এক ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন, আর কেউ জন্ম নেবে না। আমি বলছি, এক ওসমান হাদির রক্ত থেকে বাংলার প্রতিটি ইঞ্চি মাটি থেকে নতুন নতুন ওসমান হাদির জন্ম হবে। এ দেশের মানুষ ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়েই ছাড়বে।’
ভোটারদের উদ্দেশ্যে মামুনুল হক বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থীদের ভোট দিন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সিল দিন। শুধু ভোট দিলেই হবে না, নিজের ভোট নিজে পাহারা দিয়ে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরবেন।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যায় ও ইনসাফের স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। শাসনের নামে দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষের ওপর শোষণ চালানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।’
তিনি জুলাই বিপ্লব বাস্তবায়ন, শহিদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানানো এবং বিপ্লবী যোদ্ধাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী শরীয়তপুর জেলা শাখার আমির আব্দুর রব হাসেমীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর-১ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও তামিরুল মিল্লাত মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ফরিদপুর টিম সদস্য মাওলানা খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ড. মোশারফ হোসেন মাসুদ, জামায়াতের শরীয়তপুর জেলা নায়েবে আমির কে এম মকবুল হোসাইন, বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের শরীয়তপুর জেলা সভাপতি শাখাওয়াত কাউসার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা সভাপতি সাব্বির আহমদ ওসমানী, সাধারণ সম্পাদক মো: দবির হোসেন শেখ প্রমুখ।
এছাড়াও এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



