ফেনীর উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ফেনী তথা বৃহত্তর নোয়াখালী সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক।
তিনি রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনী জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘বহু বছর পর ফেনীতে এসেছি। ফেনী তথা বৃহত্তর নোয়াখালী সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক। বিএনপির কাছে যেমন আপনাদের দাবি আছে, আপনাদের কাছেও বিএনপির দাবি আছে। কিসের দাবি, সেই দাবি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা। আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। স্বাভাবিকভাবে দেশের মানুষের কাজ করতে পরিকল্পনা থাকতে হবে। জনগণই হচ্ছে বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। ১৭ বছর পর স্বৈরাচারের পতনের পর দেশে এসেছি। তখন কিছু পরিকল্পনা করেছি। নারী সমাজ, গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেয়া। কেউ কেউ বলছে এই সহযোগিতা চলবে কিনা। কৃষক ভাইদের কৃষক কার্ড দিতে চাই। সার, কীটনাশক ও বীজ সরাসরি পৌঁছে দিতে চাই।’
বিএনপির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ ফেনীতে মেডিক্যাল কলেজ করবো। গ্রামের মানুষ যাতে চিকিৎসা সুবিধা পায় সেজন্য সারাদেশে গ্রামে গ্রামে হেলথ কেয়ার দিতে চাই। যাদের কার্ড হবে ঘরে ঘরে মা-বোনদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়া যাবে। ছোট খাট অসুখ-বিসুখে হাসপাতালে যেতে হবে না। এক বছর আগে এই এলাকায় হঠাৎ করে বন্যা হলো। কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি ও আপনারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে খাল খনন করতে চাই। একইভাবে সমাজে বহু তরুণ-যুবকের চাকরি-বাকরি, কর্মসংস্থান নাই। কর্মসংস্থান করতে চাই। ফেনী অঞ্চলে ইপিজেড করতে চাই। যাতে ফেনী এলাকার মানুষ চাকরি করতে পারে। আবার যারা প্রবাসে যেতে চান, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তারা সেখানে বেশি আয় করতে পারবেন।’
‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিতে হবে,’ বলেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা যায়। তাতে জনগণের লাভ হবে না। জনগণের লাভ হবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড পেলে। দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলে। দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন হলে ধীরে ধীরে সমস্যা কমে যাবে। ধানের শীষ নির্বাচিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’
তিনি বৃহত্তর নোয়াখালীর ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিল না। আপনাদের কাছে আজ তাদেরকে রেখে গেলাম। ভোট দিয়ে তাদেরকে নির্বাচিত করুন। তাদের কাছে নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারবেন। আপনাদের সমস্যা তাদেরকে জানাবেন, তারা সমাধান করতে দায়বদ্ধ থাকবেন।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফেনী-১ আসনের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালীর প্রার্থীদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুরের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আশরাফ উদ্দিন নিজান ও শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, সহ-গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমেদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, জালাল উদ্দিন মজুমদার, মামুনুর রশিদ মামুন, অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, শাহেনা আক্তার শানু, আবু তালেব ও মশিউর রহমান বিপ্লব, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন আলী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলমগরীর আলো, লক্ষীপুর জেলা সাধারন সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু, ফেনী জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ খালেক, গাজী হাবিব উল্যাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা সভাপতি ফজলুর রহমান বকুল প্রমুখ।
এদিকে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নানা বাড়ির জেলা ফেনীতে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছিল। আজ দুপুরের পর থেকেই ফেনী ও আশপাশের জেলার হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী জনসভাস্থলে আসতে থাকে। ভিড় সামলাতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ১০টি এলইডি স্ক্রিনে জনসভা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তবুও জনসভাস্থলে উপচেপড়া ভিড়ের চাপে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।



