সামাজিক ব্যাধি নির্মূল ও একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জেলাটিতে সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে সাতজোড়া তরুণ-তরুণীর জমকালো গণবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর আয়োজনে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। ব্যতিক্রমী ও মানবিক এই বিয়ে দেখতে মিলনায়তনে উৎসবপ্রবণ মানুষের ঢল নামে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
নবদম্পতিদের আর্শীবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘যৌতুক, বাল্যবিবাহ, মাদক, জুয়া এবং নারী নির্যাতন আমাদের গ্রামীণ সমাজ ও পারিবারিক কাঠামোর ভিতকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে যৌতুক ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক কুসংস্কারগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করছে। আর মাদকের ছোবল ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে যুবসমাজকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি আলোকিত ও সমৃদ্ধ লালমনিরহাট গড়তে হলে দলমত নির্বিশেষে সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যৌতুকের মতো বৈষম্যমূলক প্রথা পরিবারে অশান্তি ও কলহের সৃষ্টি করে। সমাজকে এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করতেই আজ যৌতুকবিহীন বিয়ের যে আয়োজন করা হয়েছে, তা একটি অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সামাজিক অপরাধ নির্মূলে ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর-কনেদের শুভকামনা জানান মন্ত্রীর সহধর্মিণী মিসেস লায়লা হাবিব, জেলা প্রশাসক মুহা: রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে নবদম্পতিদের পরিবারের সদস্য, বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলায় কর্মরত সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। যৌতুক ছাড়াই নতুন জীবন শুরু করতে পেরে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বর-কনে ও তাদের পরিবার।



