অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই : প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

মাদক, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ |নয়া দিগন্ত

মাদক, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং গাজীপুরের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাবিবুর রশিদ এমপি।

তিনি বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দল নেই। নিজ দলের কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, চাঁদাবাজি, গরু চুরি, সড়ক নিরাপত্তা, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, সার মজুত ও বিতরণ এবং রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ও গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার টঙ্গীর মাজার বস্তিতে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের চিত্র তুলে ধরেন। রাজউকের জমিতে গড়ে ওঠা ওই অবৈধ বস্তি মাদকের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হওয়ায় সেখানে অভিযান পরিচালনায় নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি। বস্তিটিতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন কমিশনার।

প্রতিমন্ত্রী মাজার বস্তিসহ জেলার প্রতিটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় দৃশ্যমান ও কার্যকর অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। আইন প্রয়োগে পুলিশকে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে মাদক নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দ্রুত মামলা দায়ের এবং নিহতদের পরিবার যাতে হয়রানি ছাড়াই সরকারি আর্থিক অনুদান ও আইনি সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি জেলার প্রতিটি সরকারি বিভাগকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগামী সভায় কে কী দায়িত্ব পেয়েছেন, কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন এবং কেন পারেননি—তা পর্যালোচনা করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কাজ করছেন।’ আগামী সভার আগেই গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।