সিলেটে মুদি দোকান-কাঁচাবাজার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

ফার্মেসি ও খাবারের রেস্টুরেন্ট-মিষ্টির দোকান ব্যতিত সব বিপণী বিতান রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেটে মুদি দোকান-কাঁচাবাজার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা
সিলেটে মুদি দোকান-কাঁচাবাজার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা |নয়া দিগন্ত

ফার্মেসি ও খাবারের রেস্টুরেন্ট-মিষ্টির দোকান ব্যতিত সব বিপণী বিতান রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ। এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা।

এদিকে সিলেট নগরীর মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর হাতে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখা, সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নেতারা।

স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরীতে জরুরি সেবাদানকারী ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল ও মিষ্টির দোকান ছাড়া সবধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত সাড়ে ৯টার পর বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে সিলেটে বেড়াতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় জনসাধারণকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জনদুর্ভোগের বিষয় নিয়ে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর জিন্দাবাজারে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় নেতারা বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।

সেগুলো হচ্ছে- সিলেটের মার্কেট বন্ধের পর অনেকেই নিত্যপণ্যের বাজার করে বাসায় ফিরেন। কিন্তু মার্কেট বন্ধের সাথে সাথে মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার (মাছ, মাংস ও সবজি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাজার করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ মুদি দোকানে শিশুপণ্য বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টায় দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে শিশুপণ্যও কেনা সম্ভব হয় না। এতে সারারাত শিশুদের কষ্টের মধ্যে কাটাতে হয়।

তারা আরো উল্লেখ করেন- সিলেট একটি পর্যটন নগরী। প্রতিদিন হাজারও পর্যটক সিলেটে আসেন। অনেক পর্যটক সারাদিন বাইরে ঘুরে রাতে সিলেট নগরীতে ফিরেন। এরপর তারা হোটেলের পার্শ্ববর্তী এলাকার দোকানপাটগুলো থেকে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করে থাকেন। নগরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক হযরত শাহজালাল (র.) মাজার সংলগ্ন ‘দরগাহ বাজার’ এলাকায় অবস্থান করেন। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টায় ওই এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটকরা কেনাকাটার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মুদি দোকান, কাঁচাবাজার (মাছ, মাংস ও সবজি) ও দরগাহ বাজার এলাকার দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি প্রদান এবং রাতে সিলেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার নেতারা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাভেল, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সহ সভাপতি লুৎফুর রহমান লিলু, সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মো: আজিজুল করিম, নয়াসড়ক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ, কালিঘাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জাহিদ উদ্দিন, ওয়েষ্ট ওয়ার্ল্ড মার্কেটের সভাপতি শুয়েভ আহমদ অভি, ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।