ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই পোস্টাল ভোটে এগিয়ে ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা। তবে কেন্দ্রভিত্তিক সাধারণ ভোটের যোগফলে কোনো আসনেই তারা জয় নিশ্চিত করতে পারেননি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালটে অধিকাংশ আসনে জামায়াত বা তাদের জোট প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ভোট পেলেও সামগ্রিক ফলাফলে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) :
এই আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে পোস্টালে সর্বাধিক ৫৪২ ভোট পান জামায়াত প্রার্থী এ কে এম আমিনুল ইসলাম। তবে কেন্দ্রের ভোট যুক্ত হয়ে তার মোট ভোট দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৪৩০— এতে তিনি তৃতীয় হন। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আবদুল হান্নান পোস্টালে পান ৩০৯ ভোট। ঘোড়া প্রতীকের এ কে এম কামরুজ্জামান পান ৯৯ ভোট। এ আসনে পোস্টাল গণভোটের ৯৯৭ ভোটের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ৮৫৩ এবং ‘না’ ১৪৪।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) :
মোট পোস্টাল ভোট ৩,৩০১। এর মধ্যে এনসিপি প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন পান সর্বোচ্চ ১,৬১৭ ভোট। কিন্তু মোট ভোট ২০ হাজার ৪০১ পেয়ে তিনি তৃতীয় হন। বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পান ১,০৫২ পোস্টাল ভোট। বিএনপি জোটের জুনায়েদ আল হাবীব পান ৫০৭ ভোট। এ আসনে পোস্টালে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৩,১৬০ এবং ‘না’ ৪০৯।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) :
মোট ৫,৪১৭ পোস্টাল ভোটের মধ্যে ২,৯৮০ ভোট পান এনসিপি প্রার্থী আতাউল্লাহ। বিএনপি প্রার্থী মো: খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল পান ২,১৮২ ভোট। পোস্টাল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ৫,৩৪৮ এবং ‘না’ ৬৪৬।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) :
এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মো: আতাউর রহমান সরকার পোস্টালে ৪,৪৭০ ভোট পান। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মুশফিকুর রহমান পান ১,৭১৮ ভোট। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট ৫,৬৬৬ এবং ‘না’ ৬৩৭।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) :
১১ দল সমর্থিত রিকশা প্রতীকের আমজাদ হোসাইন পোস্টালে ৩,১০৮ ভোট পান। কেন্দ্রের ভোট মিলিয়ে তার মোট প্রাপ্তি ৬০ হাজার ৮৫৭। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নান পোস্টালে পান ১,০০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস (ফুটবল) পান ৭১৩ ভোট। এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট ২,৩৯৬ এবং ‘না’ ৩০০।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) :
জামায়াত প্রার্থী মো: মহসীন পোস্টালে পান ২,০১১ ভোট। বিজয়ী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি পান ১,১১১ ভোট। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট ২,৯৪৬ এবং ‘না’ ৪০১।
পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন চিত্র :
জেলার ছয়টি আসনে পোস্টাল ভোটের জন্য মোট নিবন্ধন করেন ৪০ হাজার ১৮২ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ২৯ হাজার ৭০৭ এবং দেশের অভ্যন্তরের ১০ হাজার ৪৭৫ জন।
আসনভিত্তিক নিবন্ধন অনুযায়ী—
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ : প্রবাসী ১,২২৬; দেশীয় ৫৮৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ : প্রবাসী ৪,৭৮৯; দেশীয় ১,২০৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ : প্রবাসী ৭,২৬৪; দেশীয় ২,৪৮৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ : প্রবাসী ৬,৩১৮; দেশীয় ৩,০২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ : প্রবাসী ৬,৪৬৯; দেশীয় ১,৬৪৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ : প্রবাসী ৩,৬৪১; দেশীয় ১,৫৩০
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষে জেলার ৮০৫টি কেন্দ্রে সাধারণ ভোট গণনার পাশাপাশি জেলা সদরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে পোস্টাল ভোট গণনা করা হয়। উপজেলা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে পোস্টাল ভোট যোগ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।



