গাইবান্ধার সাঘাটায় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই বালু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং রাতে তাদের বিরুদ্ধে সাঘাটা থানায় মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বোয়াল গেট হয়ে মুন্সিরহাট এলাকায় পরিবহনের সময় সাথালিয়া গ্রামের জহরলালের ছেলে জুয়েল আমিন এবং কচুয়া হাট গ্রামের মরহুম কদ্দুসের ছেলে সবুজ মিয়াকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাথালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জুয়েল আমিন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালু ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত ছিলেন। তিনি বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ নয়া দিগন্তকে জানান, জুয়েল ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।’
এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাঘাটা–মুন্সিরহাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চিত্র উঠে আসে। এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।



