কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশিদ বলেছেন, ‘কৃষির উন্নয়নেই দেশের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন করতে গবেষণার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশে যে সব গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানকার বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন জাত আবিষ্কার করছে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিএআরআই, বিআরআরআই, জিএইউ, এনএটিএ এবং এসসিএ সহ কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় এবং বিএআরআই এর অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালা-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কাথা বলেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষি বন্ধব সরকার। কৃষক কার্ড বিতরণ, গাছ লাগানো, খাল খননসহ বেশির ভাগ কর্মসূচি কৃষির উন্নয়নে। কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য রফতানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এক্ষেত্রে আমাদের নিরাপদ কৃষিপণ্যকে দেশের প্রধান রফতানি খাতে পরিণত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষিপণ্য রফতানি আরো বাড়বে।’
এর আগে সাম্প্রতিক সারের সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সারের কোনো সংকট নেই, সার এভেইলেবল আছে। একটা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে যে, সারের সংকট আছে। সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু লোক এখানে সারের ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশী দামে বিক্রি করছে। তারা সংকট তৈরীর পায়তারা করছে। ইতিমধ্যে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের সাথে মিটিং করেছি। আজকে থেকে তারা মনিটরিং করছে কোথায় কারা এ ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত আছে। তারা তাদেরকে খুঁজে বের করবে এবং তাদেরকে বিরত রাখবে, না হয় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।’
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০২৫-২০২৬ সালে যে সকল গবেষণা কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল সেগুলোর মূল্যায়ন এবং এসব অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী ২০২৬-২০২৭ সালে গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বারি’র বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৬৮১টি উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ), রোগ প্রতিরোধ সক্ষম ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে চাষোপযোগী জাত এবং ৬৯২টি অন্যান্য উৎপাদন প্রযুক্তিসহ এ যাবৎ মোট ১,৩৭৩টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এ সকল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে দেশে তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা এবং ফলের উৎপান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব প্রযুক্তির উপযোগিতা যাচাই বাছাই ও দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কর্মসূচি গ্রহণ করাই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
কৃষি সচিব ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন বারি’র মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ মঞ্জরুল কাদির। বারি’র গবেষণা কার্যক্রম ও সাফল্যের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বারির পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ। এসময় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের তথ্য উপস্থাপন করেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্বব্যিালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জি কে এম মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাশে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: রফিকুল ইসলাম, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক মো: সাইফুল আজম খান, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির পরিচালক ড. মো: সাইফুল আলম।
এসময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বারি’র পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাওছার উদ্দিন আহাদ। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধির্দফতর, নার্সভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিএডিসি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বারি’র বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।



