দর্শনা সীমান্তে বাংলাদেশী যুবককে মারতে মারতে নিয়ে গেল বিএসএফ

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে দর্শনা-গেদে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Chuadanga
দর্শনা সীমান্তে বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
দর্শনা সীমান্তে বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ |ফাইল ছবি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে জুলফিকার (২২) নামে এক বাংলাদেশী যুবককে আটক করে মারধর করতে করতে ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে দর্শনা-গেদে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আটক জুলফিকার দর্শনা জয়নগর গ্রামের কালো মৌলভীর ছেলে ও দর্শনা পৌর এলাকার রামনগর বিস্কুট ফ্যাক্টরির কর্মচারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যার আগে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় খড়ি কুড়াতে যান জুলফিকার। এ সময় দর্শনা-গেদে চেকপোস্টের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থানকালে গেদে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে আটক করে। সাথে থাকা আরো দুই থেকে তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জুলফিকারকে বিএসএফ সদস্যরা মারধর করতে করতে ভারতীয় অংশে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

তবে ঘটনাটির বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জয়নগর গ্রামের কয়েকজন যুবক জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে দর্শনা-গেদে রেলপথের নিরাপত্তা বেষ্টনীর কিছু অংশ খোলার চেষ্টা করছিল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জুলফিকারকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বিজিবি অধিনায়ক আরো জানান, আটক যুবককে ভারতীয় থানায় সোপর্দ করা হতে পারে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

এদিকে, সীমান্তবাসীর মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জুলফিকার বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা কেমন এবং তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্তে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত তার খোজ এবং দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।