একজন আইনজীবীকে সব বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হবে : এমপি মিলন

‘অভ্যুত্থানে যারা সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন, তারা হচ্ছেন ছাত্রসমাজ। তবে এই অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলন দিয়ে, আর শেষ হয়েছে স্বৈরাচারের পতন দিয়ে।’

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন, ‘একজন আইনজীবীকে সব বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ অসুস্থ হলে যেমন চিকিৎসকের কাছে যায়, তেমনি বিপদে পড়লে আইনজীবীর শরণাপন্ন হয়। তাই আইন পেশা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের সাথে সম্পৃক্ত।’

রোববার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের উদ্যোগে নবীনবরণ, বিদায় ও অ্যাডভোকেট সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

‘শুরুর উচ্ছ্বাস, বিদায়ের আবেগ, সাফল্যের স্বীকৃতি’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ওই নবীনবরণ, বিদায় ও অ্যাডভোকেট সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মিলন বলেন, ‘নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিয়ে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলছে।’

এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় তিনি তাদের অভিনন্দন জানান। সেইসাথে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ‘৩৬ জুলাই’-এর কথা উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট মিলন বলেন, ‘এটি হঠাৎ করে হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের আন্দোলনের একটি ফসল। ৩৬ জুলাইকে বাদ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের মানুষের ওপর চেপে থাকা একটি জগদ্দল পাথর অপসারিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অভ্যুত্থানে যারা সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন, তারা হচ্ছেন ছাত্রসমাজ। তবে এই অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলন দিয়ে, আর শেষ হয়েছে স্বৈরাচারের পতন দিয়ে।’

প্রধান অতিথি আরো বলেন, ‘সরকারের মাত্র আড়াই মাস পার হয়েছে। এর মধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে চমক দেখিয়েছেন। এতে তিনি দেশবাসীর কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। তিনি জনগণের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’ সরকারের পাশে থাকার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে তিনি বিদায়ী ছাত্রদের ক্রেস্ট ও মেধাবীদের অন্যান্য উপহারসামগ্রী প্রদান করেন অ্যাডভোকেট মিলন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রাইসুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একটি পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানকার শিক্ষকরা গুণগত শিক্ষা প্রদান করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এম ছায়েদুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এখানে একটি আধুনিক মুট কোর্ট রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী আইনি শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনবেন এবং নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে সমৃদ্ধ করবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিএসসির পরিচালক ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাসরিন লুবনা এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সামিমা সুলতানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক সামিয়া হাসান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আনসার উদ্দিন, রেজিস্ট্রার ড. আজিবার রহমান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আ ফ ম মহসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বার কাউন্সিলে উত্তীর্ণ নবীন আইনজীবীরা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।