ফেনীর দাগনভূঞা পৌর শহরের দাদনার খালকে বলা হতো দাগনভূঞার দু:খ। এই খালটি খনন করা হয়েছিলো পৌর শহরের পানি অপসারণের জন্য। আর দখল দূষণে একপর্যায়ে খালটি হয়ে পড়ে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। একদিকে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে এই খালে প্রবাহিত হতে পারেনি পানি আর অন্যদিকে একটি মহল সুযোগ বুঝে দখল করে নিয়েছিল খালের বৃহদাংশ।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দাগনভূঞা পৌরবাসীর ভোগান্তির শেষ থাকে না। অন্তর্বতী সরকারের সময়ে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন অভিযান চালিয়ে খাল অবৈধ দখলমুক্ত করেন। দখলমুক্ত হলেও ময়লার ভাগাড় থেকে মুক্তি মিলেনি।
নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপির ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়াল খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। খাল পরিষ্কার করার জন্য ফুটস্টেপ নামক রাজধানীর একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে ফুটস্টেপ খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করলে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে উপজেলা প্রশাসন ওইসময়ে এ কাজ স্থগিত করে দেয়।
ওইসময়ে তাজওয়ার আউয়াল কথা দিয়েছিলেন নির্বাচনে জয়-পরাজয় যেটাই হোক না কেন, নির্বাচনের পরে এ খাল পরিষ্কার করা হবে। এ খাল দিয়ে স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা প্রবাহের ব্যবস্থা করে দেবেন। যেই কথা, সেই কাজ। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই তিনি খাল পরিষ্কারের কাজ শুরুর জন্য ফুটস্টেপকে আবার অনুরোধ করেন। ফুটস্টেপ টিম গত ৫ দিন কঠোর পরিশ্রম করে শুক্রবার দাদনার খালে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। এখন খালে পানি প্রবাহিত হচ্ছে আগের মতোই। এ দৃশ্য দেখে আনন্দের সীমা নেই দাগনভূঞাবাসীর।
দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী ও পৌর এলাকার বাসিন্দা আজিমুল হক সুমন এ খাল পরিষ্কার করায় তাজওয়ার আউয়ালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ খাল ভরাট থাকার কারণে বর্ষাকালে দাগনভূঞা পৌর এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে থাকতো। যার কারণে পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বিশেষ করে ফাজিলেরঘাট রোডের ব্যবসায়ীরা পানিবন্দি থাকতে হতো দীর্ঘসময় ধরে। এ খাল পরিষ্কারের ফলে আমরা এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবো।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক দাগনভূঞা উপজেলা সহ সভাপতি মিজানুর রহমান হিরো বলেন, বাজার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘবছরের প্রাণের দাবি ছিল দাদনার খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা। উপজেলা প্রশাসন দখলমুক্ত করলেও খালটি মৃত অবস্থায় ছিল। আর এ মৃত খালকে প্রাণ ফিরিয়ে দেয়ায় পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়ালকে দাগনভূঞাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তার সাথে আমাদের দাবি থাকবে ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালীমহল যেন এ খাল দখল করতে না পারে, এবং খাল পরিষ্কারের কাজ যেন চলমান থাকে।
আমরা দাবি জানাচ্ছি, এ খালকে যেন পুরোপুরি সংস্কার করে একটি সুন্দর লেক ও খালেরপাড়ে ওয়াকওয়ে করে দেয়া হয়।
খাল পরিষ্কার প্রসঙ্গে তাজওয়ার এম আউয়াল বলেন, আমি যখন সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় দাগনভূঞা নামার বাজার যাই তখন ময়লাভর্তি খালটি আমার নজরে আসে। তখন সাথে সাথে আমি রাজধানীর ফুটস্টেপ নামক একটি কোম্পানিকে ফোনে অনুরোধ করি। তারা আমার অনুরোধে খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে হওয়ায় সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আচরণবিধি সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে কাজ স্থগিত রাখতে বলেন। কাজ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। তখন আমি বলেছিলাম নির্বাচনের পরেই আমরা খালটি পরিষ্কার করে দেবো। সে অনুযায়ী খাল পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনহিতকর কাজ অব্যাহত থাকবে।



