কখনো স্কুলের লেখার খাতায়, কখনো টেবিলে। হাতের কাছে যা পেয়েছেন তাতেই ফুটিয়ে তুলেছেন মাঙ্গা আর্ট আর এনিমি চরিত্র। নার্সারিতে পড়ার সময় থেকে শুরু হলেও এখনো থামেনি সাদিবের আঁকার নেশা। সময়ের সাথে তার সেই আঁকিবুকি এখন পরিণত হয়েছে অসাধারণ শিল্পকর্মে।
এসএসসি পরীক্ষা শেষ। অন্য বন্ধুরা যখন ভবিষ্যতের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত, তখন সাদিব সপ্ন দেখছেন জাপানের মাঙ্গা শিল্পী হওয়ার।
এস এম সাদিব বলেন, ‘ছবি আঁকা আমার অনেক আগে থেকেই পছন্দ ছিল। যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন থেকেই আঁকি। এখন এক প্রকার অভ্যাস হয়েগেছে। এটাকে জাপানি স্টাইলে মাঙ্গা আর্ট বা এনিমি আর্টও বলে। এটার বাংলাদেশে সেরকম কোনো রিকগনিশন না থাকলেও বহিঃবিশ্বে এটার অনেক স্বীকৃতি রয়েছে। এটা নিয়ে আমি এগোতে চাই। যদি কোনো সুযোগ পাই অবশ্যই গ্রহণ করব এবং এটা নিয়ে বড় কিছু হওয়ার চেষ্টা করব।’
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে বাড়ি সাদিব অবসর পেলেই বসে যান নতুন কোনো চরিত্রের জন্ম দিতে। তার ঘরজুড়ে এখন শুধু রং আর কল্পনার প্রতিচ্ছবি। বছরের পর বছর ধরে জমেছে তার হাতে আঁকা এসব অসংখ্য ছবি। শুরুতে বাবা ফেলে দিলেও এখন সেটা যত্ন করে রেখে দেন।
সাদিবের বাবা এস এম কামাল বলেন, ‘যখন নার্সারিতে পড়ে তখন আসলে আঁকাআঁকি শুরু। আমরা কেউ পছন্দ করতাম না নিষেধ করতাম। দেখাগেছে পড়তে গেছে কোথাও। অংক আছে সাথে সাথে ওটাও আছে। ইংরজি লিখেছে এইগুলো আছে। ওর টিচার অন্যদিকে খেয়াল করলে দেখাগেছে আঁকাআঁকি শুরু করছে। এমনকি চেয়ার, টেবিল এমনকি ওয়ালে সে আঁকে। একদিন কানাডা থেকে আমার আত্মিয় আসে এবং সে তাকে খুব উৎসাহ দেয়। এপর্যন্ত সে কত হাজার আঁকছে সেটা আমি বলতে পারি না। ফেলা দেয়া হয়েছে হাজার হাজার ছবি। মাসখানিক হলো তার কিছু ছবি আমরা সংগ্রহ করে রাখছি। টিফিনের খরচ নিয়ে সেটা দিয়ে সে রংসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনে।’
সাদিবের এসব কাজের মুল্যায়ন চান তার মা সোনিয়া পারভিন। তিনি বলেন, ‘ওর ছবি আঁকা দেখে অনেকেই বলে যে ওকে উৎসাহ দেন না কেনো। ছবি আঁকার প্রতি যেহেতু তার আগ্রহ সে স্বীকৃতি পাক। কাজের মুল্যায়ন হোক।
শুধু পরিবার নয় সাদিবের আঁকা মাঙ্গা আর্ট দেখেও মুগ্ধ তার স্কুল শিক্ষকরা। সাদিবের স্কুল শিক্ষক সালাহউদ্দিন আহমেদ মিল্টন বলেন, ‘সাদিব আমার কলমের সৈনিক স্কুল থেকে শিশু শ্রেণি থেকে লেখাপড়া করেছে। ও যখন স্কুলে যেত তখন দেখা যেত ওর খাতা ভরা শুধু ছবি আঁকা। ওনেক সময় ওর বাবা মা নালিশ করত এসে। ওর ছবিগুলো দেখে আমি নিজেই অভিভূত। তাকে যদি সরকারি পৃষ্টপোষকতা করা যায়। তবে সে একদিন বড় মাপের শিল্পি হবে।’
সাদিবের হাতে ধরা পেন্সিল আর রং তুলি যেন থামতে রাজি নয়। প্রতিটি দিন নতুন ছবির সাথে সাথে বড় হচ্ছে তার স্বপ্নও। সরকারি পৃষ্টপোষকতাসহ তার পাশে দাঁড়ালে হয়ত আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জল করবে আরো কোনো শিল্পী।



