কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গৃহবধূ গোলাপি খাতুন (২৬) হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এদিকে মামলার বাদীর অভিযোগ, এক এজাহারনামীয় আসামির নাম বাদ দেয়ার জন্য বাদীকে চাপ দেন রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী। কিন্তু বাদী এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন ওসি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর কুড়া এলাকা থেকে গৃহবধূ গোলাপি খাতুনের লাশ উদ্ধার করে রৌমারী থানা পুলিশ।
নিহত গৃহবধূ গোলাপি খাতুন উপজেলার বাওয়াইর গ্রামের সৈয়দ আলীর স্ত্রী।
নিহতের পরিবার জানায়, গোলাপি খাতুন ও তার স্বামী সৈয়দ আলীর সাথে একই গ্রামের আলী মুদ্দিনের ছেলে আব্দুল মতিন ও নুর বক্সের ছেলে মহর আলীসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি মামলা চলছিল।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষরা সংখ্যায় বেশি ও প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
নিহতের স্বামী সৈয়দ আলী অভিযোগ করে জানান, প্রতিপক্ষ মতিন, হাসিনুর ও মহর আলীসহ অন্যরা তাদের বসতঘর থেকে ফ্রিজ, টেলিভিশন, গরু, ধান, চাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বারবান্দা এলাকায় শ্যালিকার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, গত ২৫ জুলাই হাসিনুরের ছেলে নুরুন্নবী তার শ্যালিকা মনোয়ারা বেগমের বাড়ি থেকে গোলাপি খাতুনকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হাসিনুরের বাড়িতে আটকে রাখে।
নিহতের ছেলে মিলন মিয়া (১১) অভিযোগ করে বলে, ২৬ জুলাই আমাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার মা মতিনের ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় আছেন। পরদিন ২৭ জুলাই কৌশলে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে আমি সেখান থেকে খালার বাড়িতে চলে যাই। এরপর ৩০ জুলাই আমার মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, লাশ উদ্ধারের তিন দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেল্লাল হোসেন ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরো কয়েকজনকে সন্দেহভাজন আসামি করে রৌমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তবে, মামলার বাদী বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মামলা দায়েরের সময় তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি যে এজাহার দিয়েছি, সেখান থেকে একজন এজাহার নামীয় আসামির নাম বাদ দিতে বলা হয়। পরে তাদের প্রস্তুত করা আসামির তালিকায় স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়া হয়। আমি এতে রাজি না হওয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হন। পরে আমার তালিকা অনুযায়ী মামলায় আমার দেয়া আসামিদের নাম এজাহারে লিপিবদ্ধ করায় আমি স্বাক্ষর করি।’
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং আসামি গ্রেফতারের অগ্রগতি নেই।



