ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুবের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

এ উপলক্ষে জন্মস্থান বরিশালের গৌরনদী ও ঢাকার ধানমন্ডির বাসভবনে আজ (১৯ মার্চ) নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

জহুরুল ইসলাম জহির, গৌরনদী (বরিশাল)

Location :

Gaurnadi
ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব
ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব |নয়া দিগন্ত

১৯৫২ সালের সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ওরফে ছরু কাজীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষে জন্মস্থান বরিশালের গৌরনদী ও ঢাকার ধানমন্ডির বাসভবনে আজ (১৯ মার্চ) নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশশনের সাধারণ সম্পাদক ও গৌরনদী বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির জানান, গৌরনদীর ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব চত্বরে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া লাখেরাজ কসবা গ্রামে মরহুমের পারিবারিক উদ্যোগে কবর ও মসজিদ প্রাঙ্গনে এবং ঢাকার ধানমন্ডির বাসভবনে দিনব্যাপী দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ওরফে ছরু কাজী ১৯২৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর গৌরনদী উপজেলার লাখেরাজ কসবা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন । তিনি ওই গ্রামের কাজী আব্দুল মাজেদের বড় ছেলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি ভাষাসহ পাকিস্তান সরকারের অন্যান্য বৈষম্যমূলক দিকগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন নেন। ওই বছরের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অনুষ্ঠিত হরতাল কর্মসূচিতে পিকেটিং করতে গিয়ে তিনি গ্রেফতার হয়ে কারা ভোগ করেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমদ্দিন কর্তৃক উর্দুকে পাকিস্তানে একামাত্র রাষ্ট্রভাষার ঘোষণা দিয়ে পল্টনে বক্তব্যে রাখার পর নতুন করে ভাষা আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি সর্বদলীয় সভার আয়োজন করেন। ওইসভায় তাকে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে তার গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে।

২০০৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক কাজী গোলাম মাহবুব মারা যান।