পাগলা মসজিদ-শাহজালালের দরগাহর পর কেল্লা বাবার মাজারে কোটি টাকা

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো এ মাজারের শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ রহ: ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবা ছিলেন হযরত শাহজালাল রহ:-এর অন্যতম সঙ্গী ও আধ্যাত্মিক সাধক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Location :

Brahmanbaria
মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে ১২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে
মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে ১২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে |ছবি : নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ ও সিলেটের হযরত শাহজালাল রহ:-এর দরগাহর দানবাক্সে কোটি কোটি টাকা পাওয়ার খবর প্রায়ই আলোচনায় আসে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহাসিক খড়মপুর শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজার। মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে ১২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মিলেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। এর সাথে পাওয়া গেছে স্বর্ণ-রৌপ্য ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্সে এবারই প্রথম কোটি টাকার বেশি পাওয়া গেল। সোমবার সকাল ৯টায় চারটি দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনা শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৪টার দিকে গণনা শেষ হয়। পরে পাওয়া ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা মাজারের নামে সোনালী ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে দানবাক্স খোলা ও গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদরাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গণনায় অংশ নেন।

মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট থেকে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। শুক্রবার রাতে আখেরি মোনাজাতে লাখো মানুষের সমাগম হয়। রোববার দিবাগত রাত পর্যন্ত ওরসের আনুষ্ঠানিকতা চলে। এ সময় দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্ত-আশেকানরা চারটি দানবাক্সে নগদ টাকা, স্বর্ণ-রৌপ্য ও বিদেশী মুদ্রা দান করেন।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম বলেন, ২০২৩ সালে দানবাক্সে ৮৪ লাখ, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ এবং এর আগে ৬১ লাখ ও ৪৫ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবারই প্রথম কোটি টাকার বেশি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণের চেইন ও স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া কিছু উপহার সামগ্রীও পাওয়া গেছে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, চারটি দানবাক্সে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা পাওয়া গেছে। টাকা মাজারের নামে সোনালী ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে। পাওয়া স্বর্ণ-রৌপ্য ও বিদেশী মুদ্রা এখনো যাচাই করা হয়নি। এগুলো মাজার কমিটির জিম্মায় রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো এ মাজারের শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ রহ: ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবা ছিলেন হযরত শাহজালাল রহ:-এর অন্যতম সঙ্গী ও আধ্যাত্মিক সাধক।