পানিসম্পদ মন্ত্রী

আগামী বছরের জানুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

Location :

Kushtia
কুষ্টিয়ায় পদ্মা মোহনা পরিদর্শন করছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
কুষ্টিয়ায় পদ্মা মোহনা পরিদর্শন করছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি |নয়া দিগন্ত

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে পদ্মা ও গড়াই নদীর মোহনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়েছে। ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বর্ষায় বন্যা ও অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘প্রকল্পটির মাধ্যমে এই অঞ্চলের ১৯টি জেলার আশপাশের উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ বিভিন্নভাবে সুফল পাবেন। তবে অঞ্চলভেদে উপকারের ধরন ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা ভিন্ন হবে।’

প্রকল্পের অবকাঠামো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পাশাপাশি পদ্মা ও গড়াই নদীর সংযোগস্থলেও একটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এটিকে গড়াই অফটেক বলা হচ্ছে। সেখানে মাছের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের সুবিধায় নেভিগেশন লক এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গেট ও আন্ডার স্লুইস রাখা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের লক্ষ ছিল প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। সেই লক্ষেই সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে মানুষ এর সুবিধা পেতে শুরু করবেন।’

পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতের জন্য কোনো ধরনের উদ্বেগের কারণ হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম দেশ। তবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দৌলতপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।