হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু নিন্ম আয়ের মানুষ

তীব্র শীত থেকে বাঁচতে গ্রামীণ জনপদে মানুষ কাঠের লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর মাধ্যমে উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছেন।

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Manikganj
সাটুরিয়ায় হাড়কাঁপানো শীত।
সাটুরিয়ায় হাড়কাঁপানো শীত। |নয়া দিগন্ত

সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

গত কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলে সূর্যের দেখা নেই। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে গ্রামীণ জনপদে মানুষ কাঠের লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর মাধ্যমে উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তা ও বাজার-ঘাটে শিশু ও বৃদ্ধরা দলবেঁধে আগুনের কুণ্ডলী তৈরি করে শীত নিবারণ করছেন। অনেকে ছুটছেন গরম কাপড়ের দোকানে।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে এলাকায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। তা না হলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই শীত অতিবাহিত করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

সূত্রে জানা গেছে আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে এবং ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।

সাভার বাজারের ব্যবসায়ী আনিছ জানান, তীব্র শীতে মানুষ ঘর থেকে বাহিরে বের হচ্ছে খুব কম। ফলে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। তাই মাঝে মাঝে আগুনের কুণ্ডলী নিয়ে দোকান বাদ দিয়ে শীত নিবারণ করছি। এসময় পথচারীদেরও দেখা যায় আগুনের কুণ্ডলীতে ভিড় করতে।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বিশেষ করে মানুষের নিউমোনিয়া, সর্দি কাশি, ফ্লু, ব্রঙ্কিওলাইটিস, ডায়রিয়া, চর্ম রোগ ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা।’

তবে এসব রোগের সঠিক চিকিৎসা সেবা ও ঔষধপত্র পর্যপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে বলে জানান তিনি।

তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি আরো জানান, ঠান্ডা থেকে বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করা, ধুলাবালি থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, গরম ও টাটকা খাবার খাওয়া, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেলে চলতি মৌসুমে শীত জনিত রোগবালাই অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Topics