বড়াইগ্রামে গহনা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। এরপর তারা দু’জনের গহনা ফেরত দিয়ে অন্য দু’জনের গহনা ফেরত দিতে রোববার পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন।

মন্তাজুর রহমান রানা, বড়াইগ্রাম (নাটোর)

Location :

Natore
প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন স্থানীয়রা
প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন স্থানীয়রা |নয়া দিগন্ত

নাটোরের বড়াইগ্রামে গহনা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী, মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর আগে, বুধবার বিকেলে উপজেলার গোয়ালিফা কদমতলা এলাকায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহররম আলীর ছেলে ইউনুস আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গোয়ালিফা কদমতলা এলাকার বাসিন্দা বাদশার স্ত্রী সাহারা খাতুন ১৪ দিন আগে প্রতিবেশী মতিন সরকার ও জুয়েল আহমেদের স্ত্রী এবং টুটুলের মায়ের কাছ থেকে বিয়ে খেতে যাওয়ার কথা বলে দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ধার নেন। বিয়ে বাড়ি থেকে এসে পরের দিনই গহনাগুলো ফেরত দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও তিনি গহনাগুলো ফেরত দেননি। অপরদিকে, প্রায় তিন মাস আগে আহম্মেদপুর এলাকায় বাদশার নাতনী তিথী খাতুনের কাছ থেকেও একটি গহনা চেয়ে নিয়ে আসেন তিনি। বুধবার এসব গহনা ফেরত চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বাদশা মিয়াকে ডেকে এনে ইউনুস আলী বিদ্যুতের বাড়িতে সালিশ বসে।

খবর পেয়ে বাদশার স্ত্রী সাহারা খাতুন, মেয়ে হাজেরা খাতুন ও মেয়ে জামাই নটাবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমও সেখানে আসেন। সেখানে উত্তেজনার একপর্যায়ে তাদের চারজনকে মারপিট করে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। এরপর তারা দু’জনের গহনা ফেরত দিয়ে অন্য দু’জনের গহনা ফেরত দিতে রোববার পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার দুপুরে এ ব্যাপারে কথার বলার জন্য বাদশা মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তারা ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে ইউনুস আলী বিদ্যুৎ বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। প্রতিবেশীরা বাদশা ও তার লোকজনকে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ডেকে এনে আমার বাড়িতে বসে। এ সময় কে বা কারা তাদেরকে বেঁধেছে আমি জানি না, তবে তাদের কোনো মারপিট করা হয়নি।’

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘যাদের বেঁধে রাখা হয়েছিল, পুলিশ যাওয়ার পরেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।’

বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি।