তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

বারনই নদে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাছ মরে ভেসে উঠে

নলডাঙ্গার বারনই নদীর পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ছয় গুণ বেড়ে যাওয়ায় মাছ মরে ভেসে উঠে। নদের পানি পরীক্ষার পর এ কথা জানিয়েছে এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি।

Location :

Natore
বারনই নদী
বারনই নদী |নয়া দিগন্ত

নলডাঙ্গা( নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের নলডাঙ্গায় বারনই নদে বিষাক্ত বর্জ্য ও অতিরিক্ত গ্যাস সৃষ্টির ফলে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ করেই দেশীয় প্রজাতির প্রচুর মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মৎস্য বিভাগ গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে পানিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় গুণ বেশি অ্যামোনিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। বারনই নদে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাছের মড়ক।

নদের চারটি স্থানের পানি ও মাছের নমুনা পরীক্ষা করে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। নলডাঙ্গার বারনই নদীর পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ছয় গুণ বেড়ে যাওয়ায় মাছ মরে ভেসে উঠে। নদের পানি পরীক্ষার পর এ কথা জানিয়েছে এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সকাল থেকে বারনই নদীর পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ও মাছ মরে ভাসতে থাকে। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন সিংড়া উপজেলার সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন, নলডাঙ্গা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ ও বাগাতিপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হোসেন।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সদস্যরা নদের চারটি স্থানের পানি ও মাছের নমুনা পরীক্ষা করে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন।’

তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা গত শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বারনই নদের চারটি স্থানের পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নদের পানিতে স্বাভাবিকের (স্বাভাবিক মাত্রা দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম/লিটার) চেয়ে ছয় গুণ বেশি অর্থাৎ প্রতি লিটারে ১ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম অ্যামোনিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা মাছের জন্য সহনীয় নয়। এতে মাছ মারা যেতে শুরু করে।

পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বাড়ার বিভিন্ন কারণ তারা লক্ষ করেছেন। এর মধ্যে নদের উজানে মাত্রাতিরিক্ত পাট জাগ দেয়া, নদের পানিতে মুরগির খামারের বিষ্ঠা ফেলা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলা অন্যতম কারণ।

এর সাথে এক সপ্তাহ টানা মেঘলা আবহাওয়াও অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। একটানা রোদ হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বারনই নদের নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে বাগমারার তাহেরপুর পর্যন্ত বারনই নদীতে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে উঠে এবং মারা যায়। গ্যাসের কারণে মাছগুলো ভেসে উঠেছে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুঁটি মাছ থেকে শুরু করে বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে উঠে।

এ সময় নদীপাড়ের লোকজনে নদীতে নেমে মাছ শিকার করতে দেখা যায়। এ ছাড়াও অনেকে জালসহ বিভিন্ন উপায়ে মাছ শিকার করতে দেখা যায়। এ ছাড়াও এ নদীতে বেশ কয়েকটি অভ্যয়শ্রমে বিপুল পরিমান বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। অভ্যয়শ্রম ও নদীর পোনা মাছগুলো ক্ষতি গ্রস্ত হয়।