হবিগঞ্জে বনরক্ষীদের সাথে গাছচোরদের গুলি বিনিময়, পিস্তল উদ্ধার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছচোর ও বনরক্ষীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি কার্তুজ পাহাড়ি টিলা থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
হবিগঞ্জে বনরক্ষীদের সাথে গাছচোরদের গুলি বিনিময়, পিস্তল উদ্ধার
হবিগঞ্জে বনরক্ষীদের সাথে গাছচোরদের গুলি বিনিময়, পিস্তল উদ্ধার |নয়া দিগন্ত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছচোর ও বনরক্ষীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি কার্তুজ পাহাড়ি টিলা থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে চুনারুঘাট থানাধীন মিরাশী ইউনিয়নের বৈরাগী টিলা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ।

র‌্যাব-৯ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর রাত আড়াইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত চুনারুঘাটের কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর পাহাড়ে গাছচোর ও বনরক্ষীদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এসময় মোট ৩৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর কালেঙ্গা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন বাদি হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪০-৫০ জনকে আসামি করে চুনারুঘাট থানায় মামলা করেন।

মামলার পর র‌্যাব ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে বনাঞ্চলের বৈরাগী টিলায় অভিযান চালিয়ে পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা অস্ত্র ও কার্তুজটি রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চলে সংঘটিত গুলির ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছিল। এগুলো চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে একদল গাছচোর নিশ্চিন্তপুর পাহাড়ে সেগুনগাছ কাটছিল। খবর পেয়ে বিট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-আমিনের নেতৃত্বে তিন বনরক্ষী সেখানে গেলে চোরের দল তাদের ধাওয়া করে। এসময় আত্মরক্ষার্থে বনরক্ষীরা গুলি ছোড়েন। পাল্টা গুলি চালায় চোরের দলও।

কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল খালেক জানান, গুলি বিনিময়ের সময় বনরক্ষীরা ১৪ রাউন্ড এবং গাছচোরেরা ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে বনরক্ষীরা পিছু হটেন। খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গাছচোরেরা পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে ১২ টুকরা সেগুন, ৮ টুকরা আকাশমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৫৭ টুকরা কাঠ জব্দ করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- চুনারুঘাট উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মানিক মিয়া, সুমন মিয়া, শফিক মিয়া, শাহিদ মিয়া, মিশন মিয়া, কাওসার আলম দুলাল, পারভেজ মিয়া, পীরপুর গ্রামের শাহিন মিয়া, মিস্টার মোল্লা এবং আমিরপুর গ্রামের সুমন মিয়া।