রাজশাহীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ডে ভুল, শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা

এডমিট কার্ডে নাম, রোল নম্বর, বাবা-মার নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেরানিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

Location :

Rajshahi
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ডে ভুলের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রের পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ছাত্রীর ছবি, ছাত্রের প্রবেশপত্রে ছাত্রীর ছবি, কারো মা-বাবার নাম ভুলসহ নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এতে পরীক্ষায় বসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ৪৬ পরীক্ষার্থী।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষার আগে এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের মোট ৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জনের এডমিট কার্ডে বিভিন্ন ধরনের ভুল রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের ভেতরে রেখে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে বিক্ষোভ করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এডমিট কার্ডে নাম, রোল নম্বর, বাবা-মার নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেরানিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দু’দিন পরে আমাদের পরীক্ষা কিন্তু প্রবেশপত্রে এমন ভুল দেখে আমরা খুব চিন্তিত। দ্রুত এর সমাধান চাই।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা। তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে দ্রুত এডমিট কার্ডের ভুল সংশোধনের আশ্বাস দেন। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ইউএনও মাশতুরা আমিনা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমন ভুলগুলো হয়েছে। আমি নিজেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের গাফিলতির ফল।’

এদিকে অভিভাবকরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।