নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক ছাত্রী অপহরণচেষ্টার সময় চলন্ত রিকশা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন। এ সময় তার একটি ব্যাগ নিয়ে রিকশাচালক পালিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
সোমবার (২৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ঠক্কর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী জানান, বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি সোনাপুর থেকে একটি রিকশায় ওঠেন। ক্যাম্পাস-সংলগ্ন ঠক্কর এলাকায় পৌঁছানোর পর রিকশাচালক হঠাৎ মূল সড়ক ছেড়ে পূর্ব পাশের একটি নির্জন ও জনশূন্য সড়কে প্রবেশ করেন। সেখানে আশপাশে কোনো দোকানপাট বা বসতবাড়ি না থাকায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। তবে নির্জন এলাকা হওয়ায় কেউ এগিয়ে আসেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, রিকশাচালক রিকশার গতি না কমিয়ে দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে জীবন বাঁচাতে চলন্ত রিকশা থেকেই লাফ দেন ওই শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বুঝতে পেরে আমি বারবার চিৎকার করলেও কোনো সাড়া পাইনি। পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে চলন্ত রিকশা থেকে লাফ দেই।”
রিকশা থেকে লাফ দেয়ায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এ সময় সাথে থাকা দুটি ব্যাগের একটি তিনি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপর ব্যাগটি নিয়ে রিকশাচালক পালিয়ে যান। ওই ব্যাগে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি জানতে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং ওই এলাকায় কোনো টহল দল ছিল কি না, সেটিও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তার সহায়তায় অভিযুক্ত রিকশাচালককে দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলটি একটি নির্জন গ্রামীণ এলাকা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোনাপুর-ক্যাম্পাস সড়কে বহিরাগত ও কিছু রিকশাচালকের মাধ্যমে প্রায়ই হয়রানির ঘটনা ঘটে। তারা অভিযুক্ত রিকশাচালককে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার, পাশাপাশি ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সড়কগুলোতে পুলিশি টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। সোনাপুর-ক্যাম্পাস সড়কে প্রায়ই বহিরাগত ও রিকশাচালকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নানাবিধ হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তারা অনতিবিলম্বে ওই রিকশাচালককে চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং ক্যাম্পাসের আশেপাশের সড়কগুলোতে পুলিশি টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।



