কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সৌখিন মাছ শিকারীদের পলো দিয়ে মাছ ধরা এতদিন নদী, খাল ও বিলে দেখা গেলেও এবার দেখা গেছে টিকেট কেটে পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নিমুড়ী গ্রামের একটি পুকুরে ব্যতিক্রমধর্মী এ মাছ ধরার উৎসব দেখা গেছে।
মাছ শিকারীদের পুকুরে থেকে পলো দিয়ে মাছ ধরা দেখতে পুকুরের চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এসময় পুকুর সংলগ্ন লাকসাম-বাঙ্গড্ডা-চৌদ্দগ্রাম সড়কে যানজট লেগে যায়। মাছ শিকারীরা পুকুর থেকে রুই, কাতল, বোয়াল, পাঙ্গাস, সিলভারকার্প, কার্পু, গাসকার্প, শৈইল, কালিবাউসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অনায়াসে ধরে তাদের সাথে থলেসহ বস্তায় ভরতে দেখা যায়। সর্ব্বোচ্চ আট কেজি ওজনের সিলভারকার্প ধরা হয়।
জানা যায়, উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের নিমুড়ী গ্রামের জালাল, নাবালক, ইদ্রিছ, কাশেম, ইউনুছ গং তাদের বিশাল পুকুরটি একই গ্রামের সাইফুল এবং নোমানের নিকট মাছ চাষের জন্য লিজ প্রদান করেন। সাইফুল এবং নোমান পুকুরের সব মাছ পাশ্ববর্তী কাদবা গ্রামের মনছুরের নিকট বিক্রি করেন। মনছুর পলো দলের সর্দার কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্টের নবী মালের নিকট সম্পূর্ণ পুকুর দুই লাখ ৬০হাজার টাকায় বিক্রি করেন। নবী মাছ শিকারী প্রতি পলোওলার (হলিয়া) নিকট এক হাজার ২০০ টাকায় প্রতি টিকেট বিক্রি করেন। পলোওয়ালারা কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট, লালমাইয়ের বাগমারা, বাংলাবাজার, ভুশ্চি, সদরদক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা, কাশিনগর এবং নাঙ্গলকোটের কাদবা এবং বাঙ্গড্ডাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে পুকুরে ভিড় করেন।
পলোওয়ালারা দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পুকুরে পলো দিয়ে মাছ শিকার করেন। লালমাই উপজেলার হাজাতখোলা থেকে আসা ইউছুপ জানান, এক হাজার ২০০ টাকার টিকেটে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে এসেছেন।
তিনি রুই, কাতল, ব্রিগহেডসহ ছোট বড় প্রায় ২০ কেজি ওজনের মাছ পান বলে জানান।
আরেক মাছ শিকারী কাশিনগরের শাহপুর গ্রামের আবদুর রহিম বলেন, ‘এক হাজার ২০০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে পলো দিয়ে মাছ শিকার করতে এসেছি।’
মাছ খুব একটা পাননি বলে জানান তিনি।
মনছুর বলেন, ‘পলো দলের সর্দার নবী মালের নিকট দুই লাখ ৬০ হাজার টাকায় সম্পূর্ণ পুকুরের মাছ বিক্রি করলেও তিনি আমাকে দুই লাখ ১৬ হাজার টাকা প্রদান করে। এতে আমার ৪৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পলো দলের লোকজন একসাথে অনেকজন পুকুরে নেমে যাওয়ায় ঠিক কতজন একসাথে নেমেছে সঠিক হিসেব নেই। তবে তাদের সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন হবে।’
পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরা দেখতে আসা কাদবা গ্রামের রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘দলবেঁধে পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরা এবার প্রথম দেখলাম। এটা একটি ব্যাতিক্রমধর্মী মাছ ধরার উৎসব।’



