পদ্মা সেতুতে ১৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা

পদ্মা সেতু দিয়ে গত মধ্যরাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অপরাহ্ন ২টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ২৪ হাজার ১৭৯টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এসময় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭শ’ টাকা। আর ১৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১৭ হাজার ৩শ’ ২১টি।

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Louhajang
পদ্মা সেতু টোল প্লাজা
পদ্মা সেতু টোল প্লাজা |নয়া দিগন্ত

পদ্মা সেতু দিয়ে গত মধ্যরাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অপরাহ্ন ২টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ২৪ হাজার ১৭৯টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এসময় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭শ’ টাকা। আর ১৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১৭ হাজার ৩শ’ ২১টি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে নয়া দিগন্তকে এ সকল তথ্য নিশ্চিত করেছেন সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয়।

জানানো হয় ১৪ ঘণ্টায় শুধু মাওয়া প্রান্তেই টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫০ টাকা। এ সময়ের মধ্যে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ৬ হাজার ৮ শ’ ৫৮টি যানবাহন পারপার করা হয়। এতে ১৪ ঘণ্টায় টোল আদায় হয়েছে ৯৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

অন্যদিকে সোমবার (১৬ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৭ হাজার ১ শ’ ৮৬টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১১ হাজার ৪ শ’ ৩৭টিসহ উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ২৮ হাজার ৬শ’ ২৩টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা।

এদিকে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। মঙ্গলবার থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় ঈদুল ফিতরের শেষ কর্মদিবস সোমবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে নাড়ীর টানে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা।

এর ফলে ঈদের ছুটির শুরুতেই মঙ্গলবার সকাল থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহনের বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গগামী গণপরিবহনগুলো পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল বাড়লেও টোলপ্লাজায় কোনো যানজট নেই। সকালে কিছুটা চাপ থাকলেও দুপুরের পর আবার একবারে ফাঁকা হয়ে পড়ে সেতুর টোল প্লাজা।

এর আগে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা দিয়ে ১২ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজারের নীচে যানবাহন পারাপার হয়েছে। আর রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গ ও ঢাকাগামী বিভিন্ন ধরণের গণপরিবহন পারাপার হলে মাওয়া ও জাজিরাসহ দুই প্রান্ত মিলে প্রায় প্রতিদিনই টোল আদায় হয়েছে সোয়া ২ কোটি থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই যানবাহনের বাড়তি চাপ ঠেকাতে তাৎক্ষণিক মোটরসাইকেলের জন্য সাময়িক বুথসহ ৩টি বুথসহ মাওয়া প্রান্তে ১০টি ও জাজিরা প্রান্তে ৯টি টোলবুথ সচল রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে উভয় প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সচল রয়েছে।

তবে সেতুর দুই উভয় প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সার্বক্ষণিক সচল থাকায় কোনো যানজট ছিলো না। ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের কোনো দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না। মাওয়া টোলপ্লাজা থেকে যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা দিলেও সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যেই টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে।

সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা হয়ে যানবাহন চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। অন্যান্য দিনের থেকে মঙ্গলবার সকালে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো লম্বা লাইন বা কোনো যানজট নেই। স্বস্তিতেই যাত্রী এবং যানবাহনগুলো পর্যায়ক্রমে দ্রুত টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে।

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ টি এম মাহমুদুল হক নয়া দিগন্তকে দুপুরে জানান, মাওয়া টোলপ্লাজায় আসা যানবাহনের বাড়তি চলাচল থাকলেও কোনো যানজট নেই। সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহনগুলো সেতু পারাপার হচ্ছে।