গরীবের চাল আত্মসাতে অভিযুক্ত আ’লীগের চেয়ারম্যান বরখাস্ত

বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে আত্মসাৎকৃত চালের দ্বিগুণ মূল্য উপকারভোগী নারীদের ফেরত দেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Natore
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন |সংগৃহীত

নাটোরের সিংড়ায় হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

সম্প্রতি উপজেলার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ২৪৭ জন হতদরিদ্রদের বরাদ্দকৃত ভিডব্লিউবি কর্মসূচির ৭.৪১০ মেট্রিক টন (ভিজিডি) চাল বেচে দেন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। পরে বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে আত্মসাৎকৃত চালের দ্বিগুণ মূল্য উপকারভোগী নারীদের ফেরত দেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান।

অবশেষে গত ২১ মে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, ‘নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সাড়ে সাত হাজার কেজি চাল উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে অন্যত্র বিক্রি এবং কর্মসূচির আওতায় ২৪৭ জন উপকারভোগী কর্তৃক জমাকৃত সঞ্চয়ের সমুদয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখিত অভিযোগ তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে; সেহেতু, সুকাশ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন এর কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) এর (খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনকে স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) জানান, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান মোফাজ্জল হোসেন পালিয়ে গেলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন। তারপর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের ছাড়াই একক আধিপত্য বিস্তার করেন। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল বিতরণ না করে তছরুপের অভিযোগ উঠে। একইসাথে ২৪৭ জন উপকারভোগীদের আট মাসের জমাকৃত সঞ্চয় পকেটে ভরেন ওই চেয়ারম্যান।

এদিকে, সম্প্রতি সিংড়ায় হতদরিদ্রের চাল বিক্রি চেয়ারম্যানের শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা জুড়ে আলোড়ন শুরু হয়। তখন চাল আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে উপকারভোগীদের কার্ডে রাতারাতি ভুয়া টিপসহি ও স্বাক্ষর করে নাটক সাজান অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যান। কিন্তু উপকারভোগীদের শিখিয়ে দেয়া মিথ্যা বুলির আড়াল থেকে সত্য বেড়িয়ে আসে। চাল আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে জনসম্মুখে সামনে আসে।

সিংড়ার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের বরখাস্তের চিঠি হাতে পেয়েছি। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’