মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান

সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই

‘জনগণের স্বার্থে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা ও অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই।’

মো: জাকিরুল হাসান, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

Location :

Ullahpara
উল্লাপাড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচিতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান
উল্লাপাড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচিতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘জনগণের স্বার্থে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা ও অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই।’

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোট কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়। বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটি এখন জনগণের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সরকার কেন সংবিধানের অজুহাত দেখিয়ে এটি বাতিল করতে চাইছে, তা বোধগম্য নয়।’

অতীতের উদাহরণ ও সরকারের দ্বিমুখী নীতি সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান, ১৯৮৬ সালে এরশাদ এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন যদি সংবিধান বাধা না হয়ে থাকে, তবে এখন কেন এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? যদি গণভোট বৈধ না হয়, তবে এই অন্তর্বর্তী সময়ে একই অর্ডারের অধীনে হওয়া নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী একসময় গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ নিজেই গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা তালবাহানা শুরু করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। জনগণের সুবিধার জন্য যেকোনো সংস্কার করা যেতে পারে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের মূল চাওয়া ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। আমরা জনগণের সাথে আছি। অধিকার আদায়ের প্রয়োজনে সংসদে প্রতিবাদ এবং রাজপথে লড়াই করব। এটি আমাদের মৌলিক সিদ্ধান্ত।’

এর আগে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের খরিপ-১, মৌসুমে পাট, তিল, উফশী আউস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলার ৬০০ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

প্রণোদনা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন সহ অনেকে।