ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে কমিটি, ক্ষতিপূরণ ও স্পিড ব্রেকারের ঘোষণায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসক (ডিসি), গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মাদরাসা ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ক্ষতিপূরণ, স্পিড ব্রেকার স্থাপন ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

এর আগে, গাজীপুর মহানগরের গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে রোববার বেলা ১১টা থেকে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে।
শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৭) নিহত হয়। নিরাপদ সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করে তারা দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানায়।
মাদরাসা ক্যাম্পাসে সমবেত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ নূরুল করীম ভূঁইয়া বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাস্তবায়নের জন্য আজই একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিতে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও দু’জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকেও রাখা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রয়োজনীয় আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট তহবিল থেকে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে তিন লাখ টাকার চেক প্রদান করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামীকাল সোমবারই (১০ আগস্ট) গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিয়ে দ্রুততম সময়ে নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেয়া হবে। একইসাথে মাদরাসার উভয় পাশে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হবে।’
জিএমপি কমিশনার মো: ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অসমাপ্ত বিআরটি প্রকল্পের কারণে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়ছে এবং দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ তিনি নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসার উভয় পাশে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ নিযুক্ত করার ঘোষণা দেন।
সিটি প্রশাসক বিআরটি প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি একটি অপরিকল্পিত প্রকল্প এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির একটি জলন্ত দৃষ্টান্ত।’



