চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র আক্রমণ করে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। দুর্গম ওই পাহাড়ি এলাকার নিয়ন্ত্রক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনকে প্রধান করে মোট ২৪২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা সোমবার (২৫ মে) রাতে মামলাটি করেন বলে নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার পাঁচজন এবং সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ওপর সঙ্ঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগ এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথবাহিনীর জন্য নবনির্মিত একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। হামলার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য অন্তত চারটি স্থানে রাস্তা কেটে দেয়া হয়।
এরপর তিন দিকে পাহাড়ের ওপর থেকে প্রথমে গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রায় ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী ক্যাম্পের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে হামলা চালানো হয়। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়েছে বলে র্যাব জানায়।
এর আগে, গত ৯ মার্চ বড় অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেখানে পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও র্যাবের ১৩০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমানের দাবি, ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরাই এ হামলার সাথে জড়িত। একে-৪৭ রাইফেলসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল। র্যাব সদস্যরা টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও রাইফেলের গুলি ছুঁড়ে প্রতিরোধ করে।
জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র উদ্ধারে দুই প্লাটুন বিজিবি চেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন। গতকাল সোমবার সেই আবেদন অনুমোদন দেয়া হয়। ৩১ মে পর্যন্ত সেখানে বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
জঙ্গল সলিমপুর সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতাধীন হলেও সেখানে যাতায়াত করতে হয় চট্টগ্রাম নগর হয়ে। বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ ধরে এলাকাটিতে প্রবেশ করতে হয়। ছিন্নমূল ও আলীনগর- এ দুই অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে জঙ্গল সলিমপুর। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সেখানে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র : বাসস



