বরিশালের গৌরনদীতে পারিবারিক কলহের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচ নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টরর্কীচর বেদে পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমকে বেদে দিপু মিয়ার ছেলে নিলয় মিয়া সাত বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নিলয়ের সাথে সোনালীর দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
নিলয় অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সোনালীর পরকীয়ার কারণে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। সম্প্রীতি তার স্ত্রী পাঁচ বছরের ছেলে কারিমকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে তার শ্বশুর নাসির সরদার ও তার লোকজন পৃথকভাবে হামলা চালিয়ে তাদের রান্নাঘর ও দোকান ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেদে পল্লীর সরদার নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমার বেয়াই দিপু মিয়া ও জামাই নিলয় মেয়েকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন আমার ও আমার বোন নাসরিনের ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে ও আমাদের মারধর করে।’
দিপু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদার ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার বিল্ডিংয়ে হামলা চালিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে আসবারপত্র ও দরজা, জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে আমার ছোট ভাই চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭), লুৎফনর নেছাকে (৬৫) রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত চঞ্চল ও জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



