কুড়িগ্রামে টানা এক সপ্তাহের শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভোগান্তিতে পড়েছেন খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, এখন পর্যন্ত আমার ইউনিয়ন থেকে ৩০০ কম্বল শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে শীতের কাপড়ের জন্য ভিড় করছে।
সদর উপজেলার মোগল বাসা ইউনিয়নের দিনমজুর আবুল হোসেন ও জয়নাল জানায়, শীতের কারণে সকালে কামে যাইতে দেরি হয়। কনকনে শীতে হাত-পা চলে না, তবু কাজ না করে খামু কি। তাই কাজে যাইতে হয়।
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, ‘এই শীতে হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় খুব সামান্য পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।’
একই এলাকার রহিম আলী বলেন, ‘ঠান্ডায় কাজ না করলে পেঁটে ভাত যায় না। কাজে গেলে হাত-পা জ্বালাপোঁড়া করে, ঠিকমতো কাজ করতে পারি না।’
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডাইরিয়া শুরু হয়েছে।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন।’
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, নয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নগদ ৪০ লক্ষ টাকা মজুদ আছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ রোববার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।



